Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কুমারী পূজায় মায়ের বেশে ছোট্ট শতাক্ষী

  • শাস্ত্র অনুযায়ী, কোলাসুরকে বধ করার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল কুমারী পূজার
  • সৎ, নিষ্পাপ এবং স্বচ্ছ মন- এ তিন গুণের জন্য কুমারী মেয়েরা অতুলনীয়। তাই তাদের এ পূজার জন্য উপযোগী মনে করা হয়
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৪৫ পিএম

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবের অষ্টমীর দিন পালিত হয় কুমারী পূজা। এই আয়োজনে এক থেকে ষোলো বছর বয়সী কুমারী মেয়ের পূজা করা হয়। নারীদের প্রতি সম্মান জানানো কুমারী পূজার অন্যতম উদ্দেশ্য। 

রবিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকায় মহা আড়ম্বরে পালিত হলো এবারের কুমারী পূজা।

প্রতি বছরের মতো ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে মহাষ্টমীর আকর্ষণীয় পর্ব ‘‘কুমারী পূজা’’। এবারের ‘‘কুমারী’’ মায়ের নাম “শতাক্ষী গোস্বামী”। সে শ্যামল গোস্বামী ও মা রীতা গোস্বামীর মেয়ে। তার বয়স পাঁচ বছর। 

হাজার মানুষের ঢলে চুপটি করে বসে আছে সে। সৎ, নিষ্পাপ এবং স্বচ্ছ মন- এ তিন গুণের জন্য কুমারী মেয়েরা অতুলনীয়। তাই তাদের এ পূজার জন্য উপযোগী মনে করা হয়।

কুমারী মেয়েদের মনে করা হয় সর্ববিদ্যাস্বরূপিণী। কুমারী পূজা ছাড়া দেবতা পূজা গ্রহণযোগ্য হয় না বলে ভক্তদের বিশ্বাস। এ পূজায় জাতি, ধর্ম কোন ভেদ না থাকলেও ব্রাহ্মণ কুমারীদেরই সাধারণত বেছে নেওয়া হয়। 

কেন এই পূজা

শাস্ত্র অনুযায়ী, কোলাসুরকে বধ করার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল কুমারী পূজার।

কোলাসুর যখন স্বর্গ ও মর্ত্য অধিকার করেন, তখন তার থেকে মুক্তি পেতে দেবতারা মহাকালীর শরণাপন্ন হন। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে দেবী দুর্গা কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এর থেকে মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।

স্নান করিয়ে ঝকঝকে শাড়ি, ফুলের মালা, মুকুট, পায়ে আলতা, কপালে টিপ ইত্যাদি পরিয়ে সাজিয়ে তৈরি করা হয় কুমারী মাকে। এবারের কুমারী উমা সেজেগুজে ঠিক এভাবেই বসেছিল। শরতের মিষ্টি হাওয়া আর নরম রোদে ঝলমল করছিল চারিদিক। 

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কুমারীর রূপে মা দুর্গা পৃথিবীতে আসেন তার ভক্তদের আশীর্বাদ করতে। সে কারণেই রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে এদিন ছিল হাজার অনুরাগীর ঢল।

সম্মান পুরো নারীজাতির প্রতি

বাবার হাত ধরে কুমারী পূজায় আসা দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ঐন্দ্রিজার কথায়, “আজ মহাষ্টমী। আমি এখানে বাবার সাথে পূজা দেখতে এসেছি। সকাল থেকে কিছু খাইনি পূজায় অঞ্জলি দেব বলে।”

দীপিকা নামে আরেক শিশু বলে, “আজ খুব আনন্দ হচ্ছে। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে এসেছি।”

শিখা সাহা নামে এক নারী বলেন, “পুরো শহরে এখানেই একমাত্র কুমারী পূজা হয়। তাই এখানে মেয়েকে নিয়ে এসেছি। শারদীয় সব পূজার মধ্যে কুমারী পূজা অন্যতম এবং নারী জাতির সম্মানের জন্য এ পূজা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।”

ঢাকায় কুমারী পূজায় অংশ নেওয়া নারীরা/মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

মহারাজ স্বামী দেবধানানন্দ বলেন, “নারী জাতিকে কিভাবে সম্মান জানাতে হয় সেটাই এ কুমারী পূজায় উঠে আসে। কুমারী পূজায় শুধু কুমারীরা না, সম্পূর্ণ নারী জাতির স্বরূপ ফুটে ওঠে। আমদের জীবন ও সংস্কৃতিতে যাতে এটি পরিলক্ষিত হয় তাই আমদের এ কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “আমি অনেক দূর থেকে এসেছি। আমার পুরো পরিবার এসেছে এখানে। ঢাকার শুধু এ জায়গাতেই কুমারী পূজা হয়। তাই এখানে আসা। সাধারণত ১৬ বছর পর্যন্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের কন্যাকে এখানে কুমারী হিসেবে পূজা করা হয়। নারী জাতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে আমরা এ পূজা করে থাকি। আর রাতে আছে আমাদের সন্ধিপূজা।”

সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে আসা এক নারী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঢাকার পূজায় আড়ম্বর বেশি তাই এখানে আসা। এখন আমরা অঞ্জলি দেব। কুমারী পূজা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”

আর মাত্র দুই দিন। সন্তানদের কাঁদিয়ে এরপরই দেবী দুর্গা বিদায় নেবেন মর্ত্যলোক থেকে। আসবেন সামনের বছর।

   

About

Popular Links

x