টাকা দিয়ে কী সুখ কেনা যায়? গবেষণা বলছে, টাকা ও সুখের মধ্যে একটা পজিটিভ যোগসূত্র রয়েছে। অনেক সময়ই মনে হয়, “ইস আজ যদি টাকা থাকতো, এই জিনিসটা কিনতে পারতাম।” যদিও অনেক সময় এমনও দেখা যায়, পর্যাপ্ত টাকা থাকা সত্ত্বেও মানসিক শান্তি নেই জীবনে। সুতরাং, টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় কি না, তা নিয়ে তর্ক লেগেই থাকবে। তবু কিছুটা হলেও টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায়।
সুখ ও টাকার মধ্যে যোগসূত্র নিয়ে গবেষণা করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়ার হোয়ার্টন স্কুলের সিনিয়র ফেলো ম্যাট কিলিংসওয়ার্থ। ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সি ৩৩,২৬৯ মার্কিন নাগরিকের ওপর সমীক্ষা করা হয়। তাদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সেক্টরে কর্মরত এবং বছরে তাদের পারিবারিক আয় ১০ হাজার ডলার। তাদের প্রশ্ন করা হয়, তারা জীবনে সুখী কি না। কিলিংসওয়ার্থ ধনী ব্যক্তিদের তথ্যও ব্যবহার করেছেন এই গবেষণাটির জন্য।
এই সমীক্ষা থেকেই জানা গিয়েছে, যাদের আয় বেশি তারা নিম্ন আয়ের মানুষদের থেকে অনেক বেশি সুখী। কিলিংসওয়ার্থ জানিয়েছেন, ধনী ও কম রোজগারের ব্যক্তিদের মধ্যে সুখের সামগ্রিক পার্থক্য রয়েছে এবং পার্থক্যটাও বেশ চোখে পড়ার মতো। যাদের পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে, তারা জীবনে অনেক বেশি খুশি। যদিও সুখের অনেক মাপকাঠি রয়েছে। তারই মধ্যে একটি হলো টাকা। সেই মাপকাঠি দিয়ে বিচার করলে সুখ টাকা দিয়ে কিনতেই পারবেন।
শুধু ম্যাট কিলিংসওয়ার্থের গবেষণা নয়, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল কাহনেম্যানের গবেষণাও একই কথা বলছে। ২০১০ সালে ড্যানিয়েল সুখের জন্য টাকা কতটা জরুরি তার ওপর একটি সমীক্ষা করেন। সেখান থেকে জানা যায়, যে ব্যক্তির কাছে ৭৫ হাজার ডলার রয়েছে, তিনি জীবনে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি খুশি।
যদিও কার জীবনে কত টাকা থাকলে তিনি খুশি থাকবেন, সেটাও প্রশ্নের। তবে এ কথা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই যে, টাকা থাকলে জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়। কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার হোক বা পছন্দের জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান- কোনো কিছু নিয়েই দু’বার ভাবতে হয় না। এমনকী আপতকালীন পরিস্থিতিতেও ভরসা পাওয়া যায়। তা ছাড়া এই মূল্যবৃদ্ধির বাজারে স্বচ্ছল ভাবে জীবনযাপন করতে হলে টাকা দরকার। সে দিক থেকে বিচার করলে আপনি বলতেই পারেন যে টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায়।



