মালদ্বীপে এক স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনায় ৫ ইতালীয়র মৃত্যু হয়েছে বলে রোমের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ডাইভাররা ৫০ মিটার গভীরে একটি গুহা খুঁজতে গিয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে মালদ্বীপের ভাভু প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে বলা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয় একজন সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান অধ্যাপক, তার মেয়ে ও দুই তরুণ গবেষক আছেন বলে জানা গেছে।
জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিহতদের নাম প্রকাশ করেছে। তারা হলেন - সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক মন্টেফালকোনে, তার মেয়ে শিক্ষার্থী জর্জিয়া সোমাকাল, গবেষণা সহযোগী মুরিয়েল ওডেনিনো, সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের স্নাতক ফেদেরিকো গুয়ালতিয়েরি এবং বোট অপারেশনস ম্যানেজার ও ডাইভিং প্রশিক্ষক জিয়ানলুকা বেনেদেত্তি।
মালদ্বীপের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা সমুদ্রের ৬০ মিটার নিচে একটি গুহায় একজনের মৃতদেহ পেয়েছে। বাকি চারটি মৃতদেহও সেখানে পাওয়া যেতে পারে। ওই এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে বিশেষ সরঞ্জামসহ ডুবুরিদের পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির ওই পাঁচ নাগরিক বৃহস্পতিবার সকালে সমুদ্রে নেমেছিলেন। অনেকক্ষণ পরও তারা ভেসে না ওঠায়, তাদেরকে ডাইভিংয়ে নিয়ে যাওয়া নৌযানটির ক্রু’রা তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানী মালে’র প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ওই এলাকার আবহাওয়াও সেসময় খারাপ ছিল। যাত্রীবাহী নৌকা ও জেলেদের জন্য “হলুদ সতর্কতা” জারি করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ক্ষুদ্র দ্বীপদেশটিতে কোনো ডাইভিং দুর্ঘটনায় সম্ভবত এর চেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়নি।
অসংখ্য প্রবাল দ্বীপের কারণে মালদ্বীপ বিশ্বের পর্যটকদের অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য। মালদ্বীপে ডাইভিং ও স্নরকেলিং দুর্ঘটনা বেশ বিরল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি প্রাণহানির খবর এসেছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এল্লাইধু দ্বীপ রিসোর্টের কাছে এক স্কুবা দুর্ঘটনায় অভিজ্ঞ এক ব্রিটিশ নারী ডুবুরি ডুবে যান। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার স্বামীও ৫ দিন পর মারা যান। ২০২৪ সালে লাভিয়ানি প্রবাল দ্বীপপুঞ্জে স্নরকেলিং করতে গিয়ে মারা যান এক জাপানি আইনপ্রণেতা।



