জমি দখলের চেষ্টা, মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুলাই) পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা একটি ভেকু (খননযন্ত্র), ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। পরে জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে সেখানে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়।
এরপর, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বিদ্যালয়ের পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও সঙ্গে থাকা শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখানো, ধাক্কাধাক্কি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘‘রজপাড়া মৌজায় বিদ্যালয়ের নামে মোট ২১ দশমিক ৭৬ একর জমি রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমিটি ভোগদখলে রয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তাতে রাজি হননি। পরে থানায় গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।’’ বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় তিনি ন্যায়বিচার দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, ‘‘জমিটির মালিকেরা দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন। তাদের কাছ থেকে আমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে জমি কিনেছি। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার কোনো সাক্ষাৎ বা কথা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’’
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, ‘‘মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।’’



