ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফ হোসেনকে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইটের আঘাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত আহত হন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভাঙ্গার কাজী শামসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে আশ্রয় নেওয়া আশরাফ হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পর পরীক্ষার্থীরা আশরাফ হোসেনের গ্রেপ্তারের দাবিতে পরীক্ষা বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরীক্ষা পুনরায় শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা পৌরসভার নূরপুর এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফ হোসেনের হবু স্ত্রী ওই কেন্দ্রের একজন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে প্রবেশ করে তার হবু স্ত্রীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার জীববিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরুর আগে আশরাফ হোসেন তার হবু স্ত্রীকে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ সময় একই কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী তার উপস্থিতির প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে আশরাফ হোসেন শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কি করেন। এর পরপরই শিক্ষার্থীরা কক্ষ থেকে বের হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয় এবং তাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আশরাফ হোসেন কেন্দ্র সচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত এবং একজন শিক্ষার্থী ইটের আঘাতে আহত হন।
আহত শিক্ষার্থী সাজিদ ইসলাম দাবি করেন, আশরাফ হোসেন প্রায় প্রতিদিনই পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে তার হবু স্ত্রীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করতেন। এ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল। বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর সেই ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়।
প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আশরাফ হোসেনের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ছোড়া ইটের আঘাতে তিনি আহত হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আশরাফ হোসেনকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।“
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আশরাফ হোসেনের সঙ্গে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর বাগদান হয়েছে। এ কারণে তিনি নিয়মিত ওই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে আনা-নেওয়া করতেন। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শুরুর আগে হলের ভেতরে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
অন্যদিকে আশরাফ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি তার হবু স্ত্রীকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, সেখানে উপস্থিত কয়েকজন পরীক্ষার্থী, যাদের তিনি ছাত্রলীগের কর্মী বলে উল্লেখ করেন, তার হবু স্ত্রীকে উত্যক্ত করছিল। তিনি এর প্রতিবাদ করলে তারা তার ওপর হামলা চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিষয়ে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



