বাড়ির প্রধান ফটকটি খোলা থাকলেও বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। ঠিক সামনেই তুলে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১০-১২ ফুট উঁচু ইটের প্রাচীর। ফলে নিজের ভিটেবাড়িতেই এক রকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এক বয়স্ক দম্পতি। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের মই বেয়ে এবং পাশের বাড়ির ছাদ ডিঙিয়ে প্রতিদিন তাদের ঘরের বাইরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ঘটনাটি সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার নগরচর মহল্লায়।
ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন—ঝালকাঠি সদরের মানপয়সা গ্রামের আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগম। তারা ১৯৯৫ সালে সাভারে চার শতাংশ জায়গা কিনে বাড়ি করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে যেখানে স্বাভাবিকভাবে সমতল রাস্তায় হাঁটাই কষ্টকর, সেখানে জীবনের শেষ বয়সে এসে মই বেয়ে দেওয়াল বা ছাদ টপকাতে গিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন এই দম্পতি। মই থেকে একটু পা পিছলে গেলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ পথই এখন একমাত্র ভরসা।
ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান জানান, ১৯৯৫ সালে সাভারে রাজফুলবাড়ির নগরচরে এসে জমি ক্রয় করে বাড়ি করেছি। জমির পাশেই রাস্তা ছিল। কিন্তু আয়ুব মেম্বারের ভাই আসলাম আমার জমি জোর করে ১০ লাখ টাকা দিয়ে কিনে নিতে চান। কিন্তু আমি দিতে রাজি হইনি। পরে আসলাম জোর করে আমার গেটের সামনে দেওয়াল তুলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেন। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় ৮ বছর ধরে মই দিয়ে অন্যের বাড়ির ছাদে উঠে তার পরে বাড়ি থেকে বের হই।

তার স্ত্রী রাশিদা বেগম জানান, বাড়িতে কেউ অসুস্থ্য হয়ে গেলে হাসপাতালে নেওয়া অনেক কষ্টের। অন্যের বাড়ির ছাদ দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।
অভিযুক্ত আসলামকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে আসলামের বাড়ির ম্যানেজার জিয়াউর রহমান জানান, রেজা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে আসলাম চার শতাংশ জমি কিনে নেন। এরপরে আনিসুর রহমান হঠাৎ বিএস রেকর্ডে জমির পাশ দিয়ে একটি রাস্তা রেকর্ড করে নেন। পরে বিএস রেকর্ড বাদ করার জন্য আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান জানান, আমি খবর নিচ্ছি। ভুক্তভোগী পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে অতি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবো।
ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খান জানান, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে ব্যবস্থার নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে দখল করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



