ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ৫ আগস্ট উপলক্ষে ঘোষিত তিন দিনের ছুটির মধ্যে এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামে একটি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় ৫ শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পাতবার (৬ আগস্ট) কারখানাটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে কারখানাটির বিভিন্ন সেকশনের মোট ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডে কর্মরত সকল শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানাবিধ কারণে বর্তমানে ফ্যাক্টরিতে মারাত্মক ব্যবসায়িক মন্দা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়া এবং পর্যাপ্ত কাজের স্বল্পতা থাকায় ফ্যাক্টরির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এমতাবস্থায় ফ্যাক্টরির অস্তিত্ব রক্ষা ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক হ্রাস করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ২০ মোতাবেক সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অত্র ফ্যাক্টরির সর্বমোট ৫৬৫ (পাঁচশত পয়ষট্টি) জন শ্রমিককে ০৮-০৮-২৬ তারিখ হতে ছাঁটাই (Retrenchment) করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এছাড়াও নোটিশে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের চাকরির মেয়াদকাল অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ২০-এর উপধারা (২) মোতাবেক যাবতীয় আইনগত পাওনা ও সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, আইনে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি শ্রম আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী, আগামী ১ (এক) বছরের মধ্যে ফ্যাক্টরির কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেলে বা পুনরায় নতুন শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে, ছাঁটাইকৃত এই শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনরায় কাজে যোগদানের (Join) সুযোগ দেওয়া হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাইম আহমেদের মোবাইল ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকা ও গ্যাস সংকটের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক মন্দার কারণে কারখানাটি তাদের কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করেছে বলে জানতে পেরেছেন তারা।
ছাঁটাই হওয়া সুইং সেকশনের অপারেটর মো. জিয়ারুল হক ফোনে বলেন, “৫ আগস্ট উপলক্ষে কারখানা ছুটি ঘোষণা করলে টানা তিন দিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে আসি। গতকাল রাত ১১টা নাগাদ ফোনের মেসেজে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পাই। কেন বা কী কারণে এই ছাঁটাই, তা জানি না। আগামীকাল কারখানা খোলার কথা ছিল। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, কারখানার গেটেও ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, “ব্যবসায়িক মন্দা মালিকপক্ষের একটি বাহানা মাত্র। এভাবে ছুটির মধ্যে হঠাৎ করে একযোগে এত শ্রমিক ছাঁটাই অমানবিক। আমরা অবিলম্বে এই নোটিশ প্রত্যাহার করে ছাঁটাই করা সকল শ্রমিককে কাজে পুনর্বহালের দাবি জানাই।”



