Sunday, September 27, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কোটি মানুষের শিল্পনগরী সাভারে নেই সরকারি বিনোদন স্পট-পার্ক

‘পুরো সাভারে একটা বেড়ানোর জায়গা নেই, আমাদের বাসার বাইরে একটু নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা নেই’

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম

জন্মসূত্রে সাভারেই বেড়ে ওঠা সাইদুর রহমানের। বয়স ৩৫। দশকেরও বেশি সময় আগে স্কুল কলেজে পড়ার সময় বেড়ানোর জায়গা বলতে তিনি ঘুরতে যেতেন পার্শ্ববর্তী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অথবা পাশের নবীনগরের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। বয়স বেড়েছে। এখনও বেড়ানোর ভালো জায়গা এই দুটিই। তবে বিবেকের প্রশ্নে তার বারবার মনে হয়, এক দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অন্যদিকে একটি শ্রদ্ধার জায়গা কি বেড়ানোর জায়গা হতে পারে? মধ্যবয়সে এখন তিনি পরিবার নিয়ে প্রায়ই ঘুরতে যান বিভিন্ন রিসোর্টে, সেগুলোও বেশ ব্যয়বহুল। এর বাইরে সকাল-বিকাল হাঁটাহাঁটি কিংবা একটু প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানোর কোনো জায়গা নেই প্রায় কোটি মানুষের বসবাসের এই অঞ্চলটিতে।

নদী, খাল, পুরাকীর্তিসহ প্রাকৃতিক নানা উপদান থাকলেও বেহাল দশা সেগুলোর। ঢাকার নিকটবর্তী সাভার তাই শুধুই জঞ্জালভর্তি এক  নাম জায়গা। আর বাসিন্দারা কংক্রিটের জেলখানায় যেনো বন্দি। নেই প্রকৃতির কোনো ছোঁয়া।

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। দিবসটিকে সামনে রেখে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা হয়।

সাইদুর রহমানের মতো অনেকেই এই অঞ্চলে বেড়ানোর স্থান বলতে বোঝেন, বহিরাগত নিষিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদদের স্মৃতি বিজরিত সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ কিংবা ব্যয়বহুল রিসোর্টগুলো। তাদের চাওয়া, প্রায় কোটি মানুষের বসবাসের এই শহরে গড়ে তোলা হোক পর্যটন স্পষ্ট। বিশেষত, সাধারণ মানুষের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মেশার সুযোগ ও একটু অবকাশ যাপনের, হাঁটা-চলার মতো পার্ক।

সাভারের রেডিও কলোনী এলাকায় প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস করছেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “চোখের সামনে সাভার দিনে দিনে গ্রাম থেকে শহর হয়ে উঠলো। পৌরসভা হলো। সিটি কর্পোরেশনও হবে। শত শত পোশাক কারখানা, নানা শিল্প কারখানা, কিন্তু একটা পার্ক নেই, কোনো বেড়ানোর জায়গা নেই। ঢাকার উত্তরা, ধানমন্ডিসহ প্রত্যেকটা এলাকায় দেখবেন, একটু নির্মল বাতাস, প্রশান্তিতে বসার, হাঁটা-চলার জায়গা আছে। কিন্তু সাভারে কিছুই নেই। মানুষ বেড়াতে যায় জাহাঙ্গীরনগর, স্মৃতিসৌধে। যেখানে আসলে যাওয়া উচিৎ নয়।’’

সাভারের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন সানজিদা শারমিন।

তিনি বলেন, ‘‘পুরো সাভারে একটা বেড়ানোর জায়গা নেই। আমাদের বাসার বাইরে একটু নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা নেই। জাবিতে গেলে অনেক সময় বহিরাগত বলে সমস্যায় পড়তে হয়। মানুষ নিরুপায় হয়ে যায় এসব জায়গায়। সরকারি একটি পার্ক, কিংবা বেড়ানোর জায়গা থাকলে হয়তো সেখানেই যাওয়া যেতো। তাই প্রশাসনের কাছে দাবি, সাভারে সরকারিভাবে পার্ক কিংবা বেড়ানোর জায়গা বানানো হোক।’’

সাভারে প্রায় তিন দশক ধরে সাংবাদিকতা করছেন নাজমুল হুদা। বর্তমানে তিনি সাভারে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘‘সরকারিভাবে আমাদের যে ধরনের পর্যটনকেন্দ্র থাকা দরকার, সেটা সাভারে নেই। অনেকেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে বেড়াতে যান। এ ছাড়া ফ্যান্টাসি কিংডম রয়েছে, নন্দন পার্ক রয়েছে, মিলিটারি ফার্ম রয়েছে। এসব জায়গায় যান অনেকেই।”

“এগুলোর বাইরে বেসরকারিভাবেও সাভারে বেশ কয়েকটি বিনোদন পার্ক গড়ে উঠেছে। সরকারিভাবে বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় মানুষ এখন এসব বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রে যাচ্ছে। আমরা দেখেছি, নতুন গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকা এমনকি ঢাকার উত্তরা, ধানমন্ডির মতো এলাকায়ও হাটা-চলার জায়গা রয়েছে। বিনোদন বা সকালবেলা হাঁটার জন্য ঢাকায় আমরা বিভিন্ন জায়গায় যে রাস্তা বা ওয়াকওয়ে দেখি, সাভারে সেভাবে হাঁটার জন্য, বিনোদন করার জন্য, এক্সারসাইজ করার জন্য বা দৌড়ানোর জন্য সরকারি কোনো ব্যবস্থা নেই। এই এলাকায় সাভার পৌরসভা রয়েছে, ধামরাই পৌরসভা রয়েছে। এসব পৌর কর্তৃপক্ষ চাইলে হাঁটার জন্য বা বিনোদনের জন্য পার্ক করতে পারে।”

“পর্যটক বা বিনোদনপ্রেমীরা যাতে সেখানে সময় কাটাতে পারে, সেরকম কোনো স্পট যদি তারা সরকারিভাবে করে দিত, তাহলে ভালো হতো। এ ছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের হাঁটার জন্য নিরাপদ রাস্তা বা জায়গা প্রয়োজন। নিরাপদে হাঁটার ব্যবস্থা না থাকার কারণে তারাও নিয়মিত হাঁটতে পারছেন না। প্রতিটি রাস্তাঘাটের এখন ভাঙাচোরা অবস্থা। ফলে মানুষ বিনোদনের জন্য বের হওয়া, শরীরচর্চা করা কিংবা ডায়াবেটিস রোগীরা শান্তিপূর্ণভাবে একটু হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম করার মতো পরিবেশ পাচ্ছেন না। রাস্তাঘাটের এই অবস্থার কারণে মানুষ চাইলেও সেভাবে বিনোদন বা শরীরচর্চার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়া এলাকায় সরকারি উদ্যোগে হাঁটার জায়গা, বিনোদনকেন্দ্র ও পার্ক তৈরি করা প্রয়োজন।’’

সাভার নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন খান নঈম বলেন, ‘‘সাভারকে যেভাবে সাজানো উচিত ছিল, সাভারের গুরুত্ব অনুধাবন করে যেভাবে পরিকল্পনা করা উচিত ছিল, তার কিছুই হয়নি। কিছুই নেই। একটি অপরিকল্পিত নগরী। নদী, খাল-বিল সব দখল ও দূষণের শিকার। আমরা যেন একটা মরুভূমির মধ্যে, পরিত্যক্ত একটা শহরের মধ্যে পড়ে গেছি।”

“মানুষের জীবনে একটা সুন্দর পরিবেশ, বিনোদনের জায়গা, এগুলো মানুষের বেঁচে থাকারই একটা অংশ। মানুষের জীবনের সঙ্গে এগুলো জড়িত। সাভারে যদি এরকম একটা পার্ক থাকত, কিংবা এমন কোনো জায়গা থাকত, যেখানে মানুষ একটু নিঃশ্বাস নিতে পারত, প্রাণ খুলে সময় কাটাতে পারত, এটা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। আমরা সবসময় এসব দাবি করে আসছি। কিন্তু কেউ শোনে না। এখন যদি সিটি করপোরেশন না হয়, তাহলে কোনোভাবেই সাভারকে নিয়ে সঠিকভাবে কিছু করা সম্ভব হবে না। সাভারকে যদি একটা মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় রাষ্ট্র না আনে, তাহলে এই পরিস্থিতি থেকে কোনোভাবেই পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না।’’

তিনি বলেন, ‘‘শুধু পার্ক নয়, আমাদের পরিবেশ রক্ষার জন্য যে ডাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন, সাভার পৌরসভারও তা নেই। সাভারের অন্য কোনো এলাকাতেও নেই। অথচ দেখেন, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য ডাম্পিং স্টেশন কত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এখানে একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন থাকা দরকার ছিল। সেটাও নেই। উপরন্তু, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি ডাম্পিং স্টেশন এখানে রয়েছে। আমরা শুনেছিলাম, এটি অনেক আধুনিক হবে, বিজ্ঞানসম্মতভাবে পরিচালিত হবে। এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, জৈব সার তৈরি হবে—অনেক কিছু হবে।”

“কিন্তু দেখা গেল, শেষ পর্যন্ত এটি পরিবেশদূষণের একটি কারখানা খুলে বসার মতো হয়ে গেল। আমাদের এই অপরিকল্পিত অবস্থাকে পরিকল্পিত করতে হবে এবং একটি মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। সেই মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে কিন্তু বিনোদনের জায়গার ব্যবস্থাও থাকবে। তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনি বিনোদনের জায়গা পেয়ে যাবেন। এ কাজ করার সক্ষমতা এখন উপজেলা পর্যায়ে বা পৌরসভা পর্যায়ে নেই। সাভারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করতে হবে। সাভার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। তা না হলে কোনোভাবেই সাভারকে আর রক্ষা করা যাবে না এবং বাসযোগ্য রাখা যাবে না।’’

সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘সাভারে অসংখ্য মানুষ বসবাস করেন। এসব মানুষের প্রতিদিনের বিনোদনের জন্য কিংবা ছুটির দিনে সময় কাটানোর যে জায়গার প্রয়োজন, তার বড় একটি অংশ পূরণ করছে সাভারের বিভিন্ন রিসোর্ট।

“তবে সরকারিভাবে উপজেলা প্রশাসন বা পৌরসভার পক্ষ থেকে যে পার্ক বা বিনোদনকেন্দ্র থাকা দরকার, সাভারে সে ধরনের কোনো পার্ক নেই। বিষয়টি আমরা চিহ্নিত করেছি এবং সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেছি। একটি পার্ক স্থাপনের জন্য আমরা কাজ করছি। সংসদ সদস্য মহোদয় ইতিমধ্যে জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন।”

“আমরা চাইছি, অতি দ্রুত একটি পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু করতে। প্রাথমিকভাবে পুরো পার্কের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব না হলেও আংশিকভাবে কিছু কাজ শুরু করে জায়গাটি মানুষের চলাচলের উপযোগী করে চালু করার চেষ্টা করছি। অর্থাৎ, আংশিকভাবে হলেও এটি চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের পরিকল্পনার কাজ চলমান রয়েছে, মাঠপর্যায়ের কাজও চলছে। একই সঙ্গে জায়গা ও বরাদ্দ নিয়ে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি। আশা করছি, খুব দ্রুতই এর দৃশ্যমান কিছু অগ্রগতি দেখা যাবে।’’

ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, ‘‘আমাদের পৌর এলাকাগুলোতে অনেক আগে থেকেই কিছু সরকারি জমি ছিল। কিন্তু বিগত সরকারের সময়ে সেসব জমি ব্যক্তি বিশেষ দখল করে রেখেছে। অনেক জমি খাস খতিয়ানভুক্ত। খাস খতিয়ানভুক্ত এসব জমি ব্যক্তিপর্যায়ে নিয়ে অনেকে লাভবান হচ্ছে।”

“কিন্তু সামগ্রিক মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে সেগুলো কোনো কাজে আসছে না। এ ব্যাপারে আমরা অবশ্যই কাজ করব। আমরা ইতিমধ্যে জায়গা খুঁজছি। খাস খতিয়ানভুক্ত জমি, জেলা প্রশাসন (ডিসি) ও জেলা পরিষদের যেসব জায়গা রয়েছে-এর মধ্যে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী এবং পার্ক তৈরির জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে দেখছি। জায়গা পাওয়ার পর জেলা পরিষদ বা সরকারের কাছ থেকে সেটি নিয়ে ইনশাআল্লাহ আমরা একটি পার্ক করার চেষ্টা করব। সাভারের ক্ষেত্রেও একইভাবে কাজ করব।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সাভারের নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ রয়েছে। এখানেও অনেকে যান। আমাদের একটি পর্যটনকেন্দ্রও আছে সেখানে, সেটিকে কীভাবে আরও মানসম্মত করা যায়, কীভাবে আধুনিকায়ন করা যায় এবং মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করা যায়, সেটাও আমরা চিন্তা করছি। সবকিছু মিলিয়ে কীভাবে এগুলো করা যায়, তা আমাদের বিবেচনায় আছে এবং এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা কাজ করতে চাই। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস হয়েছে। এর মধ্যে বৈশ্বিক রাজনীতি, যুদ্ধসহ নানা ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে। এত কিছুর পরও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এটা শুধু মুখে বলার জন্য নয়, আন্তরিকভাবেই আমরা কাজ করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেটা করব।’’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘‘সাভার এখন আর ছোট শহর নয়। গত দশকে সাভার অনেক উন্নত হয়েছে। এটি এখন বড় একটি শহর এবং একটি শিল্পনগরী হিসেবে ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে। এখানে থাকা জাতীয় স্মৃতিসৌধ জাতীয় পর্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণ করে।”

“জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, শ্রদ্ধা নিবেদন ও পর্যটনের জন্য মানুষ সেখানে যায়। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে পার্ক, বিনোদনকেন্দ্র বা মানুষের অবসর কাটানোর মতো কোনো ব্যবস্থা সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এটি স্থানীয় সরকারের, অর্থাৎ মিউনিসিপ্যালিটির জনপ্রতিনিধিদের, একটি বড় ধরনের ব্যর্থতা। কারণ শহরটি খুব দ্রুত গতিতে বড় হয়েছে, শিল্পনগরী হিসেবে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু পাড়া-মহল্লা পর্যায়ে উদ্যান, খেলার মাঠ বা বিনোদনের জায়গা-এসব কিছুই সেভাবে গড়ে ওঠেনি।’’

তিনি বলেন, ‘‘সাভারে একটি বড় প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, বংশী নদী। নদীর দুই তীর ঘিরে খুব সুন্দর বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব ছিল। এগুলো স্থানীয় শহরবাসীর চিত্তবিনোদনের প্রয়োজন পূরণ করতে পারত। স্থানীয় সরকার যদি উদ্যোগ নেয়, তাহলে এখনো কিছু জায়গায় এ ধরনের বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।”

“সাভারে কিছু নিচু এলাকা আছে, সেগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে লেক তৈরি করা যেতে পারে। এসব জায়গাকে ঘিরে বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। জাতীয় পর্যায়ে যে স্থাপনাটি রয়েছে, সেটি জাতীয় পর্যায়ের উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হওয়া ভালো। জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভারের কাছে হওয়ায় মানুষ সেখানে যায় ঠিকই, কিন্তু সেটি মূলত জাতীয় উদ্দেশ্য পূরণ করছে। তাই শহরের মানুষের জন্য আলাদা বিনোদনকেন্দ্র তৈরি করা খুবই দরকার।’’

 

   

About

Popular Links

x