ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার জামগড়া এলাকায় পোশাক কারখানার চত্বরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুন লেগে সাতজন নিহতের ঘটনায় চারটি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থল দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে এস সুহি ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্কের ফটকে চার পোশাক কারখানা বন্ধের হাতে লেখা নোটিশ দেখা যায়।
এতে লেখা হয়েছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড, প্রীতি কম্পোজিট গার্মেন্টস লিমিটেড, অক্সফোর্ড কালারস লিমিটেড, এস সুহি ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড কারখানা বন্ধ থাকবে।
এদিকে, সকালে কারখানায় কাজে যোগ দিতে এসে বন্ধের নোটিশ দেখে অনেক শ্রমিককেই বাসায় ফিরে যেতে দেখা যায়।
প্রীতি গ্রুপের একটি কারখানায় কর্মরত একজন শ্রমিক জানান, কিভাবে আগুন লাগলো জানি না। আমরা ছুটির পর কাজ শেষে বেরিয়ে গেছিলাম। পরে দুর্ঘটনার খবর শুনতে পাই। আজকে সকালে এসে দেখি কারখানা বন্ধ। কাল খুলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এস সুহি ইন্ডাসট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের একটি বন্ধ রাখা কারখানার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করার শর্তে বলেন, “উদ্ভুত দুর্ঘটনার কারণে কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে আজ। আগামীকাল থেকে কারখানা খোলা হবে। আর নিহত কেউই কোনো পোশাক কারখানার শ্রমিক নন বলে আমরা জানতে পেরেছি। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই গ্যাস সরবরাহের শ্রমিক ছিলেন।”
অন্যদিকে, রবিবার দিবাগত রাতের বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও নিহতের ঘটনায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আর ঘটনাস্থল দেখতে সকাল থেকেই এলাকাটিতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।
এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের সামনের সড়কে ভিড় জমানো কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। আশুলিয়ার কাঠগড়া থেকে আসা জামিলা আক্তার নামে এক নারী জানান, গতকাল আগুনের খবর শুনে দেখতে আসছি। সব পুড়ে গেছে।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বলেন, “সকালে আবারও আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। পুরো এলাকা পরিদর্শন করেছি। লরির ভেতরে একটি মরদেহ, নিচে তিনটি ও পাশে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরমধ্যে একটি মরদেহ বিকৃত হয়ে যায়।”
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “গতকাল রাতে একটি অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজন, এর কিছুটা পাশে এক নারী ও ঢামেকে আরও একজনের মোট সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ জন আহত হয়েছেন। ৩ জন গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢামেকে পাঠানো হয়েছিল। এরমধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থা কাজ করছে।”
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গতকালের বিস্ফোরণের ঘটনায় আশপাশের বেশ কিছু বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এস সুহি ইন্ডাসট্রিয়াল পার্কের পার্শ্ববর্তী একটি ভবনের মালিক ফারজানা সুলতানা বলেন, “আমি দোতলায় থাকি। এখানে নিয়মিত এরকম গাড়ি আসে। গ্যাস লোড, আনলোড করা হয়। গতকাল ব্যাপক বিস্ফোরণের পর তো জানাজানি হলো। বিস্ফোরণের কারণে আমাদের থাই গ্লাস ভেঙে গেছে। ছাদ নষ্ট হয়েছে। গ্যাসের লাইন আছে, তারপরও এত বিপুল পরিমাণ গ্যাস তারা নিয়ে আসে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানাই।”
জামাল মোস্তফা নামে আরেক বাড়ি মালিক বলেন, “মূল লাইন থেকে মোটা পাইপের সরকারি গ্যাসের লাইন আছে তাদের। তারপরও বিপুল পরিমাণ গ্যাস তারা নিয়ে আসে। সিলিন্ডার আনে। এখনও অনেক গাড়ি দাঁড় করানো আছে। আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের ভবনে ক্ষতি হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এস সুহি ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রীতি কম্পোজিট কারখানায় চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারের গাড়িতে বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগে। আগুনের শিখা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও দৃশ্যমান হয়।
এ সময় বিস্ফোরণ ও আগুনে অন্তত সাতজন নিহত হন। আহত হন ১৬ জন। তবে কারখানা ছুটি হওয়ায় কোনো শ্রমিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আহতদের বেশিরভাগই পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দা। বিস্ফোরিত সিলিন্ডার উড়ে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।



