মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি বিশাল আর্থিক পুরস্কার বা বাউন্টি ঘোষণা করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির সংসদ বা মজলিসে এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ‘‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ’’ শিরোনামে একটি নতুন বিল পাসের জোর প্রক্রিয়া চলছে। এই বিলের আওতায় মার্কিন ও ইসরায়েলি শীর্ষ নেতাদের হত্যাকারীকে ৫ কোটি ইউরো বা প্রায় ৫৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা) আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার আইনি বৈধতা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২১ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ওয়ার’ এবং যুক্তরাজ্যের ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এর পৃথক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন তথ্যটি উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর চালানো আকস্মিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এই খামেনি হত্যাকাণ্ডের চরম প্রতিশোধ হিসেবেই এই বাউন্টি বিলটি ইরানের সংসদে আনা হচ্ছে।
ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এই বিলটির প্রস্তুতির বিষয়টি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। ইব্রাহিম আজিজি জানান, সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি নীতিগত ও যুদ্ধক্ষেত্রগত ভূমিকা রাখার অপরাধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে ইরানের এই পাল্টা পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা উচিত।
কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ান ঘোষণা করেছেন যে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাতে পারবে’ এমন যেকোনো ব্যক্তির জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নির্ধারণের এই বিলটির ওপর খুব শীঘ্রই ইরানি পার্লামেন্টে চূড়ান্ত ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় হলো, এই বাউন্টি বা হত্যার পুরস্কারের খবরটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের একটি সংশোধিত ও আপডেট করা গোপন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন অত্যন্ত কঠোরভাবে এই শান্তি প্রস্তাবটিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, এটি তেহরানের পূর্ববর্তী অবস্থানের চেয়ে ভালো কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি নয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, দুই পক্ষের মধ্যস্থতার আলোচনা বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল ও আশঙ্কাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং এখন নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ চাপ ইরানের ওপরই বর্তায়।



