মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৭.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের হাজারো পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপানের নিজস্ব শিন্দো কম্পনমাত্রা স্কেলে এর তীব্রতা সর্বোচ্চ সাত মাত্রায় পৌঁছায়। সংস্থাটি জানায়, সুনামির ঢেউ সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানায়, এ উচ্চতার ঢেউ ইতোমধ্যেই আঘাত হেনে থাকতে পারে।
জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানায়, কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়েনি।
স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানায়, কুমামোতো অঞ্চলে প্রায় ৪৫,০০০ পরিবার ও স্থাপনায় বিদ্যুৎ নেই।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ভূমিকম্পের সময় এ অঞ্চলে চালু থাকা তিনটি পারমাণবিক চুল্লি স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।
ভূমিকম্পের প্রায় আধা ঘণ্টা পর হেলমেট পরা এনএইচকের এক স্থানীয় সংবাদকর্মী সরাসরি সম্প্রচারে জানান, কম্পন তখনও চলছিল। সংবাদকক্ষ এতটাই কাঁপছিল যে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, “আমি কথা বলার সময়ও কম্পন চলছে। আমার মতো অনেকেরই হয়তো বুক ধড়ফড় করছে। ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় কম্পন এতটাই প্রবল ছিল যে আমি দাঁড়াতে পারিনি। তাই এরপরও আবার কম্পন হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।”
প্রসঙ্গত, জাপান বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি। প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দ্বীপদেশে প্রতিবছর সাধারণত কয়েক শত ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮% জাপানে ঘটে।
চলতি বছরের ২০ এপ্রিল দেশের উত্তরাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জন আহত হন। টোকিওর বড় বড় ভবনও কেঁপে ওঠে।
এছাড়া, গত ২৫ জুন উত্তর জাপানে ৭.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। তবে এতে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।



