Sunday, August 09, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভানোর সময় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

শনিবার তাদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ইউটা-য় একটি দাবানল নেভানোর সময় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট এবং একজন ক্রু নিহত হয়েছেন।

রবিবার (৯ আগস্ট) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনাইটেড স্টেটস ফরেস্ট সার্ভিস-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হেলিকপ্টার ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের পরিচালিত সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’ মডেলের হেলিকপ্টারটি গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে রিচফিল্ডের কাছে একটি জলাধার এলাকায় দাবানলের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের কাছাকাছি বিধ্বস্ত হয়।

দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর শনিবার ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার (এনআইএফসি) দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সংস্থাটি জানায়, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে তারা আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এনআইএফসি জানায়, দাবানলের তীব্র ভয়াবহতা এবং দুর্গম খাড়া পাহাড়ের কারণে উদ্ধারকারী দল ধ্বংসাবশেষের কাছে সহজে পৌঁছাতে পারেনি। শনিবার তাদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে এনআইএফসি ওই এলাকার বাসিন্দাদের স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে এবং বেশ কিছু সড়ক বন্ধ ঘোষণা করেছে।

শুক্রবার ডেপুটি ইনসিডেন্ট কমান্ডার টাইলার হেচ জানান, দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে দমকলকর্মীরা সাময়িকভাবে কাজ স্থগিত রাখলেও পরে তা পুনরায় শুরু করেছেন।  

তিনি বলেন, “এ দুর্ঘটনা আমাদের কাজের গতি থামিয়ে দেবে না। আমরা আকাশপথে আগের মতোই আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাব।”

ইউটার গভর্নর স্পেনসার কক্স বনভূমির দাবানল নেভানোর কাজকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং নিহত ক্রু সদস্যদের স্মরণে সবাইকে প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।

শনিবার সন্ধ্যায় ইউটা হাইওয়ে পেট্রোলের উদ্যোগে নিহতদের স্মরণে এক শোক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

গত ২৭ জুলাই বজ্রপাত থেকে ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্ট-এ সূত্রপাত হওয়া ‘ওয়াইডমাউথ ২’ নামের এই দাবানলটি ইতোমধ্যে ৪৫,০০০ হেক্টরেরও বেশি (১ লাখ ১১ হাজার একর) এলাকা জ্বালিয়ে দিয়েছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় দাবানল হতে যাচ্ছে এটি।

শনিবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাতাসে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার ফলে এটি আশপাশের লোকালয়ের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ২৪% আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

চলতি মৌসুমে এটি ইউটায় দাবানল নেভাতে গিয়ে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এর আগে, গত জুনে কলোরাডো সীমান্তের কাছে নোলস ও গোর দাবানল নেভানোর সময় তিনজন দমকলকর্মী মারা যান। পরবর্তীতে ওই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আরও এক দমকলকর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান।

   

About

Popular Links

x