ফ্রান্সের পর এবার শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামেও। শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী চাপ এবং শিক্ষা উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেওয়ার প্রতিবাদে বেলজিয়ামে শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভ চলছে।
এ পর্যন্ত ১০৭ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা মূলত বেলজিয়ামের ফরাসিভাষী অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়া ছাড়াও শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার কথা বলছে বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। একটিতে লেখা রয়েছে, ‘সবকিছু এলোমেলো। আমরা একটি অধিকারের জন্য লড়ছি, কোনো বিশেষ সুবিধার জন্য নয়’।
আরেকটি প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে, ‘আমি শিক্ষা বেছে নিয়েছি, হাঙ্গার গেমস নয়’। এখানে তীব্র প্রতিযোগিতা ও টিকে থাকার লড়াইয়ের বদলে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিক্ষোভের তীব্রতার মুখে বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের সরকারি সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের দ্রুত দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, ‘বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করুন।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লিয়েজ শহরের প্রধান রেলস্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলেও পরে তা পুনরায় চালু করা হয়। সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ‘চলমান বিক্ষোভের কারণে শহরের কেন্দ্রে যাতায়াত এড়িয়ে চলুন। সেখানে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।'
এর আগে গত জুনেও ব্রাসেলসে শিক্ষা সংস্কার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই সংস্কারের আওতায় ফরাসিভাষী অঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর টিউশন ফি ৮৩৫ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ১,১৯৪ ইউরো করার প্রস্তাব করা হয়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে লিয়েজ শহরের বিভিন্ন সড়কে ভাঙা কাচ, আগুন এবং শত শত তরুণ বিক্ষোভকারীর উপস্থিতি দেখা গেছে। অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সড়ক অবরোধ করে রেখেছে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে কোনো অস্ত্র আছে কি না, তা তল্লাশি করছে।
এদিকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তারা ফ্রান্সে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আলফ্রেড বলেন, “আমরা একে অপরকে সমর্থন করছি। কারণ, আমরা প্রায় একই সমস্যার মুখোমুখি।”



