ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা জোরালো হওয়ায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তাকে একটি সুরক্ষিত প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুবরাজকে এমন কয়েকটি প্রাসাদে রাখা হচ্ছে, যেখানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বাঙ্কার রয়েছে। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে বিশেষভাবে বাছাই করা একটি দল। যুবরাজের চলাফেরা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের বরাতে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
৪১ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানকে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জনসমক্ষে দেখা যায়। সেদিন তিনি একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রক্ত দিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ছোড়া অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। ইরান যুদ্ধসংশ্লিষ্ট সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির মিত্রদের ওপর চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটি চারবার হামলার শিকার হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলার ভয়াবহতা বিবেচনায় সৌদি আরবের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও “সমান গুরুতর” হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে মক্কা চুক্তির আওতাভুক্ত সৌদি আরবের মিত্ররাও দেশটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে তেহরান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার ভাষ্য, এই সংঘাত চলতে থাকলে তাতে শুধু ইসরায়েলই লাভবান হবে।



