দেশজুড়ে রূপচর্চা ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করে নারীদের মেধা ও প্রতিভার স্বীকৃতি দিতে জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুর্কিনা ফাসো। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে মেধাবী তরুণীদের চিহ্নিত করা এবং পুরস্কৃত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পালস নাইজেরিয়া ২৪৭-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
২০২৬ সালের জুনে দেশটির সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদা রক্ষার কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে। নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলাকালে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর আগস্টে ‘হাকিলি মুসো’ নামে একটি বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ৮৪ জন তরুণী অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়া ব্যক্তিদের পুরস্কার ও বৃত্তি দেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যম ব্রিফলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ৮৪ জনই ২০২৬ সালে বিজ্ঞানে ব্যাকালোরেট বা উচ্চমাধ্যমিক সমমানের ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। মূল প্রতিযোগিতা শুরুর আগে তারা এক সপ্তাহের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। এরপর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে পরীক্ষায় বসেন।
প্রতিটি বিষয়ে সেরা পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারীরা পান ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন পুরস্কার।
পরে দেশটির রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম ট্রাওরে বিজয়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তাদের নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে, বৈজ্ঞানিক পেশা বেছে নিতে এবং উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে উৎসাহিত করেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বজায় রাখার পাশাপাশি বিজ্ঞানে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো, বিজ্ঞানভিত্তিক পেশা কেবল পুরুষদের জন্য, এমন ধারণা ভুল প্রমাণ করা এবং আরও বেশি নারীকে বিজ্ঞানচর্চায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।



