ভারতে ১০০ জনের বেশি মুসলমান নারীর ছবি আপলোড দিয়ে, তাদের ‘বিক্রি’ করা হচ্ছে এমন বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর একটি অ্যাপের নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে রাজ্য পুলিশ
প্রতীকী ছবি/পিক্সাবে
ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:৪৩ পিএমআপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:০০ পিএম
ভারতে ১০০ জনের বেশি মুসলমান নারীর ছবি আপলোড দিয়ে, তাদের “বিক্রি” করা হচ্ছে এমন বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর একটি অ্যাপের নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দেশটির দুইটি রাজ্যের পুলিশ। মামলায় অ্যাপটির ডেভেলপার এবং যিনি টুইটার হ্যান্ডেলে ছবি ও বিষয়বস্তু শেয়ারের দায়িত্বে ছিলেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, “বুল্লি বাই” নামের ওই অ্যাপটি একটি ওপেন সোর্স অ্যাপ। এটি অপারেট করা হতো গিটহাব নামের একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। মামলা হওয়ার পর গিটহাব কর্তৃপক্ষ কন্টেন্ট সরিয়ে দেয়।
এদিকে, গত কয়েক মাসের মধ্যে অনলাইনে মুসলমান নারীদের “নিলাম” বা “বিক্রি”র মতো হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড ভারতে দ্বিতীয়বার ঘটলো। এর আগে জুলাই মাসে “সুল্লি ডিলস” নামের একটি অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট ৮০ জনেরও বেশি মুসলমান নারীর প্রোফাইল তৈরি করে। মূলত ওই নারীদের নিজেদের প্রোফাইলে আপলোড দেওয়া ছবি ব্যবহার করে বলা হয় “ডিলস অব দ্য ডে”।
ব্যবসায়িক পরিভাষায় কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনে সুনির্দিষ্ট দামে সেরা অফারকে বলা হয়ে থাকে “ডিলস অব দ্য ডে”।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, “বুল্লি বাই” কিংবা “সুল্লি ডিলস” অ্যাপগুলো কোনো ক্ষেত্রেই, সত্যিকার অর্থে বেচাকেনার জন্য ছিল না। কিন্তু এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান নারীদের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে তাদের অপমান করা।
“সুল্লি” শব্দটি একটি মানহানিকর হিন্দি গালি। ভারতের ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো মুসলমান নারীদের ব্যাঙ্গ করার জন্য এই শব্দটি ব্যবহার করে। আর বুল্লি শব্দের অর্থ নিন্দনীয়।
ইসমত আরা নামের এক ভারতীয় সাংবাদিকের নাম এবং ছবি দেওয়া হয় বুল্লি বাই অ্যাপে। তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং ধর্মের কারণে শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগ এনে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বুল্লি বাই অ্যাপে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, একজন পুরস্কার বিজয়ী বলিউড অভিনেতা এবং এমনকি ২০১৬ সালে নিখোঁজ হওয়া একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মায়ের নাম ও ছবি দেওয়া হয়েছিল। যাদের ছবি এবং নাম ছিল ওই অ্যাপে তাদের অনেকেই টুইট করেছেন যে তারা “মানসিক আঘাত” পেয়েছেন এবং প্রচণ্ড “আতঙ্কিত” বোধ করেছেন।
এদিকে, “সুল্লি ডিলস” এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ঘটনার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন দেশটির রাজনীতিবিদ এবং অধিকার কর্মীরা।
অন্যদিকে, শনিবার ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, ওই অ্যাপটি যারা আপলোড করেছে গিটহাব তাদের ব্লক করেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ সাইবার সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে। শিবসেনা দলের একজন আইনপ্রণেতা এ বিষয়ে একটি টুইট করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, “প্ল্যাটফর্ম ব্লক করার পাশাপাশি এই ধরনের সাইট তৈরি করা অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।”
ভারতে বন্ধ হলো ‘মুসলমান নারী বিক্রির’ অ্যাপ
ভারতে ১০০ জনের বেশি মুসলমান নারীর ছবি আপলোড দিয়ে, তাদের ‘বিক্রি’ করা হচ্ছে এমন বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর একটি অ্যাপের নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে রাজ্য পুলিশ
ভারতে ১০০ জনের বেশি মুসলমান নারীর ছবি আপলোড দিয়ে, তাদের “বিক্রি” করা হচ্ছে এমন বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর একটি অ্যাপের নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দেশটির দুইটি রাজ্যের পুলিশ। মামলায় অ্যাপটির ডেভেলপার এবং যিনি টুইটার হ্যান্ডেলে ছবি ও বিষয়বস্তু শেয়ারের দায়িত্বে ছিলেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, “বুল্লি বাই” নামের ওই অ্যাপটি একটি ওপেন সোর্স অ্যাপ। এটি অপারেট করা হতো গিটহাব নামের একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। মামলা হওয়ার পর গিটহাব কর্তৃপক্ষ কন্টেন্ট সরিয়ে দেয়।
এদিকে, গত কয়েক মাসের মধ্যে অনলাইনে মুসলমান নারীদের “নিলাম” বা “বিক্রি”র মতো হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড ভারতে দ্বিতীয়বার ঘটলো। এর আগে জুলাই মাসে “সুল্লি ডিলস” নামের একটি অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট ৮০ জনেরও বেশি মুসলমান নারীর প্রোফাইল তৈরি করে। মূলত ওই নারীদের নিজেদের প্রোফাইলে আপলোড দেওয়া ছবি ব্যবহার করে বলা হয় “ডিলস অব দ্য ডে”।
ব্যবসায়িক পরিভাষায় কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনে সুনির্দিষ্ট দামে সেরা অফারকে বলা হয়ে থাকে “ডিলস অব দ্য ডে”।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, “বুল্লি বাই” কিংবা “সুল্লি ডিলস” অ্যাপগুলো কোনো ক্ষেত্রেই, সত্যিকার অর্থে বেচাকেনার জন্য ছিল না। কিন্তু এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান নারীদের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে তাদের অপমান করা।
“সুল্লি” শব্দটি একটি মানহানিকর হিন্দি গালি। ভারতের ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো মুসলমান নারীদের ব্যাঙ্গ করার জন্য এই শব্দটি ব্যবহার করে। আর বুল্লি শব্দের অর্থ নিন্দনীয়।
ইসমত আরা নামের এক ভারতীয় সাংবাদিকের নাম এবং ছবি দেওয়া হয় বুল্লি বাই অ্যাপে। তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং ধর্মের কারণে শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগ এনে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বুল্লি বাই অ্যাপে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, একজন পুরস্কার বিজয়ী বলিউড অভিনেতা এবং এমনকি ২০১৬ সালে নিখোঁজ হওয়া একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মায়ের নাম ও ছবি দেওয়া হয়েছিল। যাদের ছবি এবং নাম ছিল ওই অ্যাপে তাদের অনেকেই টুইট করেছেন যে তারা “মানসিক আঘাত” পেয়েছেন এবং প্রচণ্ড “আতঙ্কিত” বোধ করেছেন।
এদিকে, “সুল্লি ডিলস” এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ঘটনার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন দেশটির রাজনীতিবিদ এবং অধিকার কর্মীরা।
অন্যদিকে, শনিবার ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, ওই অ্যাপটি যারা আপলোড করেছে গিটহাব তাদের ব্লক করেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ সাইবার সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে। শিবসেনা দলের একজন আইনপ্রণেতা এ বিষয়ে একটি টুইট করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, “প্ল্যাটফর্ম ব্লক করার পাশাপাশি এই ধরনের সাইট তৈরি করা অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।”