Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভারতীয় রুপির রেকর্ড পতন

এই প্রথম এক ডলারের দাম হলো ৮০ রুপিরও বেশি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২২, ০৮:৫০ পিএম

ভারতীয় মুদ্রার দাম কিছুদিন ধরে পড়ছিল। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) সকালে রুপির রেকর্ড পতন হয়। এক মার্কিন ডলারের মূল্য গিয়ে দাঁড়ায় ৮০.০১ পয়সা। এ যাবতকালের মধ্যে রুপির দাম কখনো এতটা পড়েনি। চলতি বছরের শুরুতে এক মার্কিন ডলারের মূল্য ছিল ৭৪ রুপি। তারপর থেকে রুপির দাম পড়তে পড়তে এখন ৮০ রুপিতে এক ডলার হলো।

কেন এই পতন?

ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের মতে, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, তেলের দাম বেড়ে যাওয়া, বিদেশি সংস্থাগুলো নিজেদের পুঁজি তুলে নেওয়ার ফলে রুপির দাম কমছে।”

তবে ঘটনা হলো, শুধু রুপির দাম কমছে, তাই নয়, গত কয়েক মাসে ইউরোর মতো অত্যন্ত শক্তিশালী মুদ্রার দামও অনেকটাই কমেছে। এখন ইউরো ও মার্কিন ডলারের মূল্য প্রায় সমান হয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় সব দেশের মুদ্রাই কমবেশি পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে কাজ করছেন সুগত হাজরা। 

তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ ৯%-এর বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিশ্বের বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে তার বড় প্রভাব পড়ছে বিশ্বের ওপর। এর ফলে ভারতের শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলো তাদের অর্থ বের করে নিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব গোটা বিশ্বের অর্থনীতির ওপর পড়ছে। ফলে রুপির দামও কমছে।

ভারতীয় অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, রুপির দাম আরও পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে যদি আর্থিক মন্দা দেখা দেয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে তার ভয়ংকর প্রভাব পড়তে বাধ্য।

ভারতীয় অর্থনীতি করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনই এলো ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা। এর প্রভাব ভারতে পড়বেই বলে মনে করছেন দেশটির পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক আমলা অমিতাভ রায়।

ভারতের কোথায় অসুবিধা হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক ডলার সমান ৮০ রুপি, এটা একটা মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা। তবে ভারতের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হবে অশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে। ভারতে যতটা অশোধিত তেল প্রয়োজন, তার ৮০% বিদেশ থেকে আসে। যেহেতু রুপির দাম পড়ে গেছে, তাই এই তেল কিনতে ভারতের বেশি খরচ হবে। ভারতকে ভোজ্য তেলের একটা অংশ আমদানি করতে হয়। তাতেও রুপি বেশি লাগবে। বস্তুত, সব ক্ষেত্রে আমদানির খরচ বেড়ে যাবে। সুবিধা হবে রপ্তানির ক্ষেত্রে।

অমিতাভ রায়ের বক্তব্য, “ভারত এখন রাশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে অশোধিত তেল কিনছে। সেখানে তারা তেল পাচ্ছে বাজারের তুলনায় প্রায় এক তৃতীয়াংশ দামে।” তবে তার দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো যতটা রাশিয়ার তেল কিনছে, বেসরকারি সংস্থাগুলি কিনছে তার থেকে অনেক বেশি।

সুগত মনে করেন, “এর ফলে শেয়ারবাজার আরও পড়তে পারে। মিউচুয়াল ফান্ডও পড়বে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে আশার কথা হলো, এই মুহূর্তে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় যথেষ্ট ভালো। আর রিজার্ভ ব্যাংক এবার রুপির পতন রুখতে ডলার বিক্রি করছে না। তারা বরং কাঠামোগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

সুগত হাজরা জানিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাংক যেমন দেশের ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দিয়েছে, তারা প্রবাসী ভারতীয়দের ক্ষেত্রে সুদের হার বাড়িয়ে দিতে পারবে। বাজপেয়ীর আমলে অর্থনীতির হাল সামাল দিতে প্রবাসী ভারতীয়দের অর্থ খুব কাজে এসেছিল। দেশে সুদের হার আগেই বাড়িয়েছে তারা, আরও বাড়তে পারে। আর রাশিয়ার তেল কেনার সুবিধা হলো, তা রুবল দিয়ে কেনা যাচ্ছে। অন্য দেশের সঙ্গেও ডলার বাদ দিয়ে তাদের দেশের মুদ্রায় আমদানি করার চেষ্টা করছে ভারত।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, বিদেশি লগ্নিকারি সংস্থাগুলো যে অর্থ তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে, এই ডিসেম্বরের মধ্যে তারা আবার ফিরে আসতে বাধ্য হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রও ডলারের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পদক্ষেপ নিতে বাধ্য। আর ভারতের মতো বাজার লগ্নিকারী সংস্থাগুলো অন্য জায়গায় পাবে না। ফলে ডলারের দাম ৮০ রুপি ছুঁলেও এখনই "গেল গেল" রব তোলার দরকার নেই।

   

About

Popular Links

x