ভিয়েতনামে আকস্মিক বজ্রঝড়ের কবলে পরে একটি পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ওই নৌকার আরও প্রায় ৫ জন মানুষ। ওই নৌকায় বেশ কয়েকটি পরিবার ছিল বলে জানিয়েছে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে উত্তর ভিয়েতনামের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র “হা লং বে” এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সংবাদমাধ্যম দান ত্রি’র খবরে বলা হয়েছে, হঠাৎ তুমুল বৃষ্টিপাতের কারণে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটিতে ৪৮ জন যাত্রীসহ ৫৩ জন আরোহী ছিলেন।
সংবাদমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেস জানিয়েছে, “ওয়ান্ডার সি” নামের ওই নৌকাটিতে থাকা পরিবারগুলোর বেশির ভাগই রাজধানী হ্যানয় থেকে হা লং বেতে গিয়েছিল। যাত্রীদের মধ্যে ২০টির বেশি শিশু ছিল।
এদিকে, স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ভিএনএক্সপ্রেস জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। বাকি ৩৭ জনের লাশ ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবল ঝড়ো হাওয়ার কারণে নৌকাটি উল্টে যায়। নৌকার উল্টে যাওয়া অংশের ভেতর আটকে পড়া ১৪ বছরের এক কিশোরকে চার ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার হয়। উল্টে গেলে নৌকার মধ্যে যেটুকু বাতাস আটকে গিয়েছিল, তা গ্রহণ করেই জীবিত ছিল সে।
অধিকাংশ যাত্রীই রাজধানী হ্যানয়ের বাসিন্দা এবং যাত্রীদের অন্তত ২০ জন শিশু ছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টার দিকে আকাশ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর পায়ের আঙুলের সমান আকারের শিলাবৃষ্টি শুরু হয়, সঙ্গে প্রবল বর্ষণ, বজ্রঝড় আর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল।
ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালানো হবে এবং যেকোনো গাফিলতির ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুয়াং নিং প্রদেশের হা লং বে এলাকায় শত শত ছোট ছোট দ্বীপ-উপদ্বীপ ছড়িয়ে আছে। ২০১৯ সালে এখানকার দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ। এটি একটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
এদিকে, ওই অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসছে একটি ক্রমবর্ধমান ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, “উইফা” নামের ঘূর্ণিঝড়টি আগামী সপ্তাহে ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে হা লং বে উপকূলে আঘাত হানতে পারে।



