ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম (এমএসজে) বিভাগের আয়োজনে সফলভাবে মঞ্চস্থ হলো ‘রূপান্তর: The ReSonance Show’।
রবিবার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এটির মঞ্চস্থ হয়। পূর্বে ‘Trashion Show’ নামে পরিচিত এই প্রযোজনাটি এবার নতুন নামে ও নতুন আঙ্গিকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত করে ইউল্যাবের শিক্ষার্থীরা।
পরিবেশ সচেতনতা, পারফরম্যান্স আর্ট ও আন্তঃবিষয়ক সৃজনশীলতার সমন্বয়ে আয়োজিত ৮০ মিনিটের এই প্রযোজনায় ৪টি টিমের শিক্ষার্থীরা পরিত্যক্ত ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করে পোশাক, অঙ্গভঙ্গি, পারফরম্যান্স এবং দৃশ্যকথনের মাধ্যমে তাদের চিন্তার প্রকাশ করে।
বর্জ্য ও পরিত্যক্ত উপকরণকে নতুন অর্থ ও শৈল্পিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে প্রযোজনাটি পরিবেশের প্রতি সচেতনতা এবং শিল্পচর্চার মধ্যে একটি অর্থবহ সংযোগ তৈরি করে।
শিল্পী এ এফ এম মনিরুজ্জামান শিপুর কিউরেশনে নির্মিত ‘রূপান্তর: The ReSonance Show’-এ পারফরম্যান্স, ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ও পোশাকের মাধ্যমে সমসাময়িক বিভিন্ন সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরা হয়।
আয়োজনটি বর্জ্য ও পুনর্ব্যবহার সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করে এবং একইসঙ্গে দর্শকদের পরিবেশ, সমাজ ও সৃজনশীলতা নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করে।
এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ইসরাত বলেন, “রূপান্তর আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে, শিখিয়েছে যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে। এই যাত্রায় আমি নিজেকেও ছাড়িয়ে গিয়েছি বলে মনে করি। এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমরা এই শো সফলভাবে শেষ করেছি!”
এমএসজে বিভাগের কারিকুলাম ইন্টিগ্রেশন (CI) উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই প্রযোজনাটি একাডেমিক শিক্ষাকে শ্রেণিকক্ষের বাইরের সৃজনশীল চর্চার সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে। এবারের কারিকুলাম ইন্টিগ্রেশনের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘প্ল্যাটফর্ম সোসাইটি ইন দ্যা গ্লোবাল সাউথ’।
এই থিমকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, যোগাযোগের ধরন, পরিচয়, সৃজনশীলতার প্রকাশ এবং ক্ষমতার সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে, তা বিভিন্ন সৃজনশীল মাধ্যমের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে।
ইউল্যাবের শিক্ষার্থী ইমু বলেন, “পুরো সেমিস্টারজুড়ে যে পরিশ্রম ও ত্যাগ করেছি, তার ফল আমি হাতে পেয়েছি। ‘রূপান্তর’ আমাকে নতুন করে টিমওয়ার্ক ও ক্রিয়েটিভ প্ল্যান এক্সিকিউশনের দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করেছে। সবমিলিয়ে, এই শো-এর অভিজ্ঞতাকে আমি আমার জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন বলে মনে করি।”
গ্লোবাল সাউথের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রযোজনাটিতে প্ল্যাটফর্মনির্ভর সমাজের সুযোগ, বৈষম্য এবং সামাজিক বাস্তবতাগুলোও তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক ধারণাগুলোকে পারফরম্যান্স ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়ার সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে দর্শকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ডিন ও এমএসজে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক দিন এম. সুমন রহমান এবং এমএসজে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ এফ এম মনিরুজ্জামান শিপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রিন্টমেকিং বিভাগের অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা।
প্রখ্যাত শিল্পী ও শিক্ষাবিদ হিসেবে রোকেয়া সুলতানার উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও সমৃদ্ধ করে এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চর্চা, ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতি ও আন্তঃবিষয়ক শিক্ষায় আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করে।
এসবের পাশাপাশি মেন্টর টিমের মিরাজ আহমেদ সিয়াম জানায়, ‘রূপান্তর: The ReSonance Show’-এর মিডিয়া টিমের মেন্টর হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে জনসংযোগ ও মিডিয়া ব্যবস্থাপনার একটি চমৎকার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। কীভাবে সঠিক কৌশল অবলম্বন করে দর্শকদের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত থাকতে হয় এবং প্রচারণার কার্যক্রমগুলো পরিকল্পিত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হয়, তা এই কাজের মাধ্যমে শিখেছি। সবমিলিয়ে, এই অভিজ্ঞতা যোগাযোগের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
‘রূপান্তর: The ReSonance Show’ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অনুসন্ধান, পরিবেশ সচেতনতা ও সৃজনশীল অভিব্যক্তির একটি সম্মিলিত মঞ্চ হিসেবে সফলভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হয়। পরিত্যক্ত উপকরণকে শিল্পের মাধ্যমে নতুন অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি প্রযোজনাটি সমসাময়িক সমাজ ও ডিজিটাল সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনার সুযোগ তৈরি করে এবং কারিকুলাম ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও আন্তঃবিষয়ক শিক্ষার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।



