খুব শিগগিরই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে ভারত। তবে সামান্য ভুল করলেই আবেদনটি বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চলুন জেনে নেই দালাল বা কোনো থার্ডপার্টি ছাড়াই আপনি ঘরে বসে স্মার্টফোন বা পিসি দিয়ে কী করে ভিসা নিশ্চিত করতে পারবেন।
সঠিক আবেদনের পদ্ধতি
ধাপ ১ (রেজিস্ট্রেশন): প্রথমে অফিসিয়াল পোর্টাল indianvisaonline.gov.in-এ গিয়ে Regular/Paper Visa Application অপশনে ক্লিক করুন।
ধাপ ২ (আইডি জেনারেশন): ফর্ম পূরণ শুরু করলে একটি Temporary Application ID জেনারেট হবে। এটি লিখে রাখুন, কারণ বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট চলে গেলে এই আইডি দিয়ে আবার শুরু করা যাবে।
ধাপ ৩ (আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা): আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ হিসেবে যা লাগবে - গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (ব্যালেন্স কমপক্ষে ২০,০০০ টাকা থাকা ভালো), পাসপোর্টে ১৫০ ডলার বা তার বেশি এন্ডর্সমেন্ট করা থাকতে হবে। চাকরিজীবী হলে এনওসি (NOC) বা অফিস আইডি কার্ডের ফটোকপি, ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি, শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে আইডি কার্ডের ফটোকপি লাগবে।
ধাপ ৪ (ডিজিটাল ছবি আপলোড): ২*২ ইঞ্চি সাইজের ছবি (ব্যাকগ্রাউন্ড অবশ্যই সাদা হতে হবে এবং স্পষ্ট হতে হবে)। ছবি ঝাপসা হলে সিস্টেম অটোমেটিক আবেদন বাতিল করে দেবে।
ধাপ ৫ (ভিসা সেন্টার নির্বাচন): আবেদনের সময় বর্তমান ঠিকানার নিকটস্থ সেন্টারটি বেছে নিতে হবে।
ধাপ ৬ (ভিসা প্রসেসিং ফি ও পেমেন্ট পদ্ধতি): ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার প্রসেসিং ফি সাধারণত ১৫০০ টাকা। এখন আর ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। ঘরে বসেই বিকাশ, নগদ রকেট কিংবা যেকোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে ফি জমা দিতে পারবেন। ফি জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত BDR Number (ট্র্যানজেকশন আইডি) দিয়ে আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্ম করতে হবে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পাওয়ার সিক্রেট সময়
আগে স্লট পাওয়া নিয়ে অনেক ভোগান্তি থাকলেও এখন আইভ্যাক সিস্টেমে পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম আনুযায়ী, প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে সার্ভার রিফ্রেশ করা হয়। সাধারণত বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে লগ ইন করলে দ্রুত স্লট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যারা এই সময়ের বাইরে চেষ্টা করেন, তারাই মূলত 'স্লট নট অ্যাভেইলেবল' মেসেজটি পান।
ভেরিফিকেশনের সময় যা অবশ্যই মাথায় রাখবেন
বর্তমানে ভারতীয় হাই কমিশন তথ্য যাচাইয়ে আরও কঠোর হয়েছে। ফর্মে আপনার নাম, পিতার নাম যেন হুবহু পাসপোর্টের মতো হয়। ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের ডিজিটাল কপি আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা ৬ মাসের বেশি পুরোনো হওয়া চলবে না।
ওটিপি ও বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা
আবেদন প্রক্রিয়ায় এখন মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন বা ওটিপি সিস্টেম চালু হয়েছে। তাই নিজের ব্যক্তিগত সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখবেন, একজনের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি আবেদন করলে সেই আবেদনগুলো এখন স্প্যাম হিসেবে গণ্য হবে।
কখন এবং কীভাবে হাতে পাবেন আপনার পাসপোর্ট
ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (IVAC) সফলভাবে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে ভিসা সম্পন্ন পাসপোর্ট পাওয়া যায়, তবে মেডিকেল ভিসার ক্ষেত্রে এই সময় আরও কম হতে পারে। আপনার পাসপোর্টটি এখন কোন পর্যায়ে আছে তা জানতে আইভ্যাক এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাপ্লিকেশন আইডি এবং পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ঘরে বসেই অনলাইনে ট্র্যাকিং করতে পারবেন। এছাড়া পাসপোর্ট ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হলে মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি এসএমএস পাঠানো হবে। এরপরে নির্দিষ্ট পেমেন্ট স্লিপ আইভ্যাক সেন্টারে উপস্থিত হয়ে বিকেল ৩টা থেকে ৬টার মধ্যে সংগ্রহ করতে পারবেন আপনার পাসপোর্ট।
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এক বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ভারতের ভিসা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।



