Sunday, June 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১১৪ বছর পর টাইটানিক যাত্রীর লাইফজ্যাকেট নিলামে বিক্রি

জানা গেছে, লাইফ জ্যাকেটটি প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে 

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ 'টাইটানিকের' মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা মনে আছে? ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার প্রথম যাত্রায় নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে একটি বিরাট বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে যায়।

জাহাজটি যখন ডুবে যাচ্ছিল, তখন একটি লাইফবোটের সাহায্যে প্রাণ বাঁচিয়ে ফেরা এক যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট সম্প্রতি (১১৪ বছর পরে) নিলামে উঠেছিল বলে জানা যায়। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের ডেভাইজেসে লাইফ জ্যাকেটটি নিলামে ৬,৭০,০০০ পাউন্ডে (প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ডলার) বিক্রি হয়েছে।

এই লাইফ জ্যাকেটটি পরেছিলেন বিলাসবহুল ওই জাহাজের প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাতেলি। জ্যাকেটিতে লরা এবং একই লাইফবোটে থাকা অন্য বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের স্বাক্ষরও রয়েছে।

পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডিভাইজেসে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান 'হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন' এর টাইটানিকের স্মারক বিক্রির আয়োজনে এই জ্যাকেটটিই ছিল আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। নিলামের আগে এটির দাম ছিল আনুমানিক আড়াই লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ পাউন্ডের মধ্যে কিন্তু শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাত এক ব্যক্তি টেলিফোনে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দামে কিনে নেন।

একই নিলামে টাইটানিকের একটি লাইফবোটের সিট কুশন (বসার গদি) ৩,৯০,০০০ পাউন্ডে (৫ লাখ ২৭ হাজার ডলার) বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির পিজন ফোর্জ এবং মিসৌরির ব্র্যানসনে অবস্থিত দুটি টাইটানিক জাদুঘরের মালিক এটি কিনে নেন। উল্লেখ্য, বিক্রিত এই দামের মধ্যে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের ফি বা 'বায়ার্স প্রিমিয়াম' ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেছেন, "রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই দামগুলো প্রমাণ করে যে টাইটানিকের গল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ আজও কতটা প্রবল। একইসঙ্গে সেইসব যাত্রী ও ক্রুদের প্রতি এটি এক গভীর সম্মান প্রদর্শন যাদের জীবনকাহিনী এই স্মারকগুলোর মাধ্যমে অমর হয়ে আছে।"

টাইটানিক নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখনও মানুষের মাঝে উত্তেজনা কাজ করে। এর অন্যতম কারণ ছিল জাহাজে থাকা দরিদ্র থেকে শুরু করে প্রচণ্ড প্রভাবশালী—সব স্তরের মানুষের সরব উপস্থিতি।

লরা ফ্রাঙ্কাতেলি সেই জাহাজে তার নিয়োগকর্তা তথা ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডন এবং লুসির স্বামী কসমো ডাফ গর্ডনের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তারা তিনজনই টাইটানিকের ১ নম্বর লাইফবোটে চড়ে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হন। ৪০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ওই লাইফবোটটি মাত্র ১২ জন নিয়ে পানিতে নামানো হয়েছিল। তখন সমুদ্রের বরফশীতল পানি থেকে অন্য ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার না করায় পরবর্তীতে এ ঘটনাটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

   

About

Popular Links

x