Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গবেষণা: প্রিয় ডিভাইসের নীল স্ক্রিন ডেকে আনতে পারে মানসিক সমস্যা ও স্থূলতা

ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসগুলো থেকে নির্গত নীল আলোর অত্যাধিক এক্সপোজার আমাদের শরীরের ত্বক এবং চর্বি কোষ থেকে শুরু করে সংবেদনশীল নিউরন পর্যন্ত বিস্তৃত কোষের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৫৯ পিএম

দৈনন্দিন জীবনে ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেটগুলো অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দিনের একটা বড় সময়ই কাটে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের স্ক্রিনে তাকিয়ে। কিন্তু অনেকক্ষণ ধরে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে হতে পারে বিভিন্ন সমস্যা।

সম্প্রতি মাছিদের ওপর চালানো একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, দীর্ঘক্ষণ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে আপনি স্থূলতা এবং বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় ভুগতে পারেন। আর এক্ষেত্রে মূল প্রভাবক ডিভাইসগুলোর নির্গত নীল আলো। এ গবেষণার ফলাফল ফ্রন্টিয়ার্স ইন এজিং-এ প্রকাশিত হয়েছে।

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ডা. জাদউইগা গিবুলটোভিজ বলেন, “টিভি, ল্যাপটপ এবং ফোনের মতো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসগুলো থেকে নির্গত নীল আলোর অত্যধিক এক্সপোজার আমাদের শরীরের ত্বক এবং চর্বি কোষ থেকে শুরু করে সংবেদনশীল নিউরন পর্যন্ত বিস্তৃত কোষে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। অ্যান্টি এজিংয়ের ক্ষেত্রে অত্যধিক নীল আলোর এক্সপোজার এড়ানো একটি কার্যকরী উপায় হতে পারে বলে গবেষণার ভিত্তিতে আমাদের পরামর্শ।”

স্ক্রিনের আলো বন্ধ করে দিন

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এর আগে দেখিয়েছেন, বিশেষ ধরনের একদল মাছিকে অনবরত আলোর সংস্পর্শে রাখা হলে তাদের মধ্যে “স্ট্রেসরোধী জিন” কাজ করা শুরু করে, অর্থাৎ তখন তাদের মধ্যে এক ধরনের অবসাদ কাজ করে। আবার একই প্রজাতির আরেকগুচ্ছ মাছিকে অবিরাম অন্ধকারে রাখা হলে তারা অবসাদহীনভাবে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকে।

গবেষণায় যে মাছিদের কোষগুলোর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, সেখানে ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে বিপাকের স্তরে নীল আলোর এক্সপোজার উল্লেখযোগ্য পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গবেষকরা দেখতে পান, মেটাবোলাইট সাক্সিনেটের মাত্রা বাড়লেও  গ্লুটামেটের মাত্রা কম হয়েছে।

গিবুলটোভিজ বলেন, “প্রতিটি কোষের কার্যকারিতা এবং জ্বালানী উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সুসিনেট অপরিহার্য। নীল আলোর সংস্পর্শে আসার পরে উচ্চ মাত্রার সাক্সিনেটকে পাম্পে থাকা গ্যাসের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।”

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলোর এক্সপোজারের পর গ্লুটামেটের মতো নিউরনের মধ্যে যোগাযোগের জন্য দায়ী অণুগুলো নিম্নস্তরে থাকে।

বার্ধক্য বাড়িয়ে দেয়

গবেষকদের দ্বারা নথিভুক্ত পরিবর্তনগুলোতে দেখা যায়, ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো মানুষের বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া, সাবঅপ্টিমাল স্তরে কাজ করা কোষগুলো অকাল মৃত্যুরও কারণ হতে পারে।

গিবুলটোভিজ বলেন, “বর্তমান সময়ে ব্যবহৃত অধিকাংশ মুঠোফোন, ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং টিভিতে এলইডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়। মাছি এবং মানুষের কোষে সংকেত আদান-প্রদানকারী রাসায়নিকগুলো একই ধরনের। তাই নীল আলোর প্রভাবে মাছিদের কোষে যে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়, সেটি মানুষের ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “গবেষণার সময়ে আমরা মাছিদের ওপর মোটামুটি শক্তিশালী মাত্রার নীল আলো ব্যবহার করেছি। মানুষ তুলনামূলক কম তীব্র আলোর সংস্পর্শে আসে। তাই মানবকোষে ক্ষতির মাত্রা কম হতে পারে। তবে নীল আলোর অত্যধিক এক্সপোজারের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মানবকোষে শক্তি উৎপাদনে জড়িত বিপাকগুলোতে অনুরূপ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।”

   

About

Popular Links

x