বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর গাঁজা সেবনকারীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এই আসক্তি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম বয়সে নিয়মিত বেশি করে গাঁজা সেবন করলে শরীর ও মনের ওপর কুপ্রভাব পড়ে।
জার্মানির গবেষক ও অধ্যাপক মাক্সিমিলিয়ান গার জানান, কম বয়সে এমন আসক্তি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সিরা যারা নিয়মিত ও বেশি পরিমাণ গাঁজা সেবন করেন, তাদের শরীরে ক্রনিক ও স্থায়ী পরিবর্তন হয়। এমনকি মস্তিষ্কেও পরিবর্তন ঘটে। মস্তিষ্কের সংকোচন ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
লিনুস নয়মায়ার নামে এক যুবক নিয়মিত গাঁজা সেবন করেন। এর আগে তার কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না। তবে কয়েক মাস ধরে গাঁজা সেবনের পর তার “প্যানিক অ্যাটাক” শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, “গাঁজা সেবনে মাথায় নানা চিন্তা তৈরি হতো সেগুলোর নাগাল পাওয়ার কোনো উপায় ছিল না। ফলে মনে ভয় জন্মাতো। এমন অবস্থার ঠিকমতো বর্ণনা দেওয়া কঠিন। মনে হতো, যে কোনো মুহূর্তে মরে যেতে পারি; হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাবে, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারবো না।”
২০০০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জার্মানির হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে অধ্যাপক মাক্সিমিলিয়ান দেখেছেন, গাঁজা সেবনের কারণে মানসিক ব্যাধি নিয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। এমন রোগীর সংখ্যা পাঁচ গুণ বেড়ে গিয়েছিল।
তবে লিনুস নয়মায়ারের মতো রোগীরা ভর্তি না হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেছেন। এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ গাঁজার কারণে সাইকোসিস শনাক্ত করে ভীতি কাটাতে এমন রোগীদের জন্য অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়েছিলেন।
নানা প্রচলিত গুজব ভুল প্রমাণ করে গাঁজা যে সত্যি আসক্ত করে তোলে তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে। এমন ভুল ধারণার নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।
অধ্যাপক মাক্সিমিলিয়ান মনে করেন, “সত্যিকারের আসক্তি থাকলে খুব কম রোগীই প্রথম চেষ্টায় মাদক সেবন বন্ধ করতে পারেন। গাঁজা সেবন চালিয়ে যাওয়ার হার অত্যন্ত বেশি। এমন রোগীরা গাঁজা সেবন থামিয়ে দিলে আরও খারাপ প্রভাব দেখা যায়।”



