যশোরের চৌগাছায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জুয়েল রানা (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১১জুন) সকাল ১০টার দিকে মুক্তদাহ গ্রামের মোড়ে মারপিটে আহত হওয়ার পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত জুয়েল রানা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামের বাসিন্দা ও পাতিবিলা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মায়া খাতুন (৩৫) আহত হয়েছেন। পিটিয়ে আহত হওয়ার পর জুয়েলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল রানা পাতিবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সময়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মারপিট ও মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জুয়েল এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর তিনি এলাকায় ফেরেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করতেন। গত বুধবার (১০ জুন) রাতে গ্রামের ইউপি সদস্য ও পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নামে গ্রামের একটি মোড়ে বসে গালিগালাজ করেন। সেই গালিগালাজের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তদাহ মোড়ে বিএনপি নেতা নজরুল, তার ছেলে বাবুসহ ৫/৬ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে জুয়েলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা জুয়েলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পিটিয়ে দুই পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে ভেঙে দেন। এ সময় তাকে মারধর থেকে ঠেকাতে গেলে স্ত্রী মায়া খাতুন আহত হন।
পরে, গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা জুয়েলকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যশোর হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল মারা যান।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে আহাজারি করতে দেখা যায় যুবলীগ নেতা জুয়েলের স্ত্রী মায়া খাতুনকে। তিনি জানান, তিনি তার মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওই সময় তার স্বামী স্থানীয় মোড়ে চা খেতে যান। হামলাকারীরা তাকে (স্ত্রীকে) একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে তার স্বামীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এসময় আমার স্বামী পানির তৃষ্ণার জন্য আকুতি করছিলো। তবে কেউ তাকে পানি দেয়নি।
মায়ার দাবি করেন, এসময় বিএনপি নেতা নজরুল মেম্বারের ছেলে বাবু নিহত যুবলীগ নেতা জুয়েলের মুখে ‘প্রস্রাব’ করে দেয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলছিলেন, যারা আমার স্বামীকে এভাবে হত্যা করেছে। তাদের বিচার করতে হবে। আল্লাহ তুমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার কইরো।
এদিন বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে জুয়েলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় পাতিবিলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল বলেন, “জুয়েল আওয়ামী লীগের ‘ক্যান্ডার’ প্রকৃতির ছিল। আওয়ামী লীগের সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারপিট, মামলার আসামি করাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে।”
তবে, এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম।
নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ মানতে নারাজ চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ। তিনি দাবি করেন, নিহতের স্ত্রীকে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহত জুয়েলের বিরুদ্ধে মারামারিসহ ৩টি মামলা রয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় আনা হয়েছে। জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে।



