আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে ফেসবুকে শোক প্রকাশ করায় ঢাকার হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের এক নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতার নাম মো. মাহিম রনি; তিনি হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম বিষয়টি ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।
এর আগে থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম ও সাইফুল ইসলাম আকাশের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের কাছে সুপারিশ করা হয়।
হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সেলিম বলেন, “ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করে। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত কোনো যুদ্ধাপরাধীর প্রতি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর আবেগ থাকতে পারে না। ছাত্রলীগে রাজাকারের কোনো ঠাঁই নাই। তাই মাহিম রনিকে সংগঠনের সকল কাজ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।”
গত ১৪ আগস্ট রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাঈদীর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সাঈদীর মৃত্যুকে ঘিরে সহিংস তাণ্ডব শুরু করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা জনসাধারণের জানমালের ক্ষতির চেষ্টা করে। দেশব্যাপী অনেক জায়গায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ তাদের তৎপরতা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, সাঈদীর মৃত্যুর পর তার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠান ও এর জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ঢাকা ও কক্সবাজারে সাত হাজারের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। ঢাকায় একটি মামলায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
জামায়াতে ইসলামির মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সারাদেশে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অন্তত ৫০-৬০টি মামলা করেছে পুলিশ। আর প্রায় ২৫৫ জনের মতো নেতাকর্মীকে বিভিন্ন জেলায় আটক করা হয়েছে।



