Saturday, October 17, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফুলের নাম মেসি, পাপড়িতে যেন আর্জেন্টিনার পতাকা

মেসির সম্মানে এর নাম দেওয়া হয়েছে সালভিয়া মেসি

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩ এএম

ফুটবল, শিক্ষা ও বিজ্ঞানকে কি কখনো এক সুতোয় গাঁথা সম্ভব? লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয়েছে। চলতি মাসেই জাতীয় দল থেকে অবসর নেন তিনি, তখন তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয় বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়। এবার পেরুর দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলে সমতলভূমি থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার উঁচুতে জন্ম নেওয়া একটি সুগন্ধি গাছের ফুলের নাম মেসির নামে রেখেছেন দেশটির একদল বিজ্ঞানী।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, আন্দিজ পর্বতমালায় জন্মানো এই উদ্ভিদ এত দিন বিজ্ঞানের কাছে অচেনা ছিল। মেসির সম্মানে এর নাম দেওয়া হয়েছে “সালভিয়া মেসি” (salvia messii)। আন্দিজের পেরুভিত্তিক অংশে পাথুরে ঢালে জন্মানো এই উদ্ভিদের পাপড়ি নীল ও সাদা রঙের। এটি ল্যামিয়াসি (Lamiaceae) পরিবারের একটি গুল্মজাতীয় সুগন্ধি উদ্ভিদ। এই পরিবারে তুলসী, পুদিনা, রোজমেরি ও সাধারণ সেজের মতো গাছও রয়েছে।

পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পল গঞ্জালেস, আর্জেন্টিনার স্বাধীন গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর হুরারাঙ্গো নেচারের জ্যঁ কাপচা-রামোস প্রজাতিটি আবিষ্কার ও বর্ণনা করেন। তাদের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক জার্নাল ফাইটোতাক্সায়।

আবিষ্কারের শুরুটা হয় কাকতালীয়ভাবে। রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি অব লন্ডনের পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষিবিদ ও উদ্ভিদ প্রজননবিদ রোলান্দো উরিয়া কয়েকজন অপেশাদারের শেয়ার করা রেকর্ড দেখতে গিয়ে লক্ষ করেন, পেরুর উচ্চভূমির একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের ছবি বইয়ে নথিভুক্ত কোনো প্রজাতির সঙ্গেই মিলছে না। সন্দেহ হলে তিনি লিমার ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের পেরুভিয়ান উদ্ভিদবিদ পল গঞ্জালেস ও জীববিজ্ঞানী জ্যঁ কাপচা-রামোসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনজন মিলে আনুষ্ঠানিক গবেষণার জন্য দল গঠন করেন।

দলটি ঐতিহাসিক আর্কাইভ পর্যালোচনা করে, বৈজ্ঞানিক সংগ্রহশালার নমুনা নিয়ে কাজ করে এবং পর্বতমালার সবচেয়ে দুর্গম ঢালগুলোয় বছরের পর বছর অভিযান চালায়। শেষে তাঁরা নিশ্চিত হন, দেড় মিটার পর্যন্ত উঁচু এই শক্তপোক্ত গুল্মজাতীয় উদ্ভিদকে আগে কেউ শ্রেণিবদ্ধ করেননি।

নতুন আবিষ্কৃত উদ্ভিদের নামকরণ ইচ্ছেমতো করা যায় না, আন্তর্জাতিক নিয়ম মানতে হয়। কোনো ব্যক্তির সম্মানে প্রজাতির নাম রাখার সময় বিজ্ঞানীরা লাতিন ব্যাকরণের নিয়মে পদবির শেষে ‘আই’ (i) যোগ করেন, যার অর্থ “মেসির উদ্ভিদ”।

মায়মোনাইডস ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ন্যাচারাল, এনভায়রমেন্টাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সায়েন্সেস এবং আজারা ফাউন্ডেশনের গবেষক ক্লদিও বের্তোনাত্তি বলেন, “বৈজ্ঞানিক গবেষণা মানুষেরই সৃষ্টি, তাই কোনো প্রকৃতিবিদ বা বিজ্ঞানী মেসির মতো ব্যক্তিত্বের গুণাবলি ও আবেগের পরিমণ্ডলের বাইরে গিয়ে কাজ করেন না। এ কারণেই বিভিন্ন অঞ্চলের ও ভিন্ন ভিন্ন প্রাণী বা উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই শ্রদ্ধাঞ্জলিতে এক হয়েছেন, যা মেসির নামকে অমর করে রাখবে।”

আর্জেন্টিনার জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতার নামে কোনো প্রজাতির নাম রাখার ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। আর্জেন্টিনার সালতায় বারিতু জাতীয় পার্কে আবিষ্কৃত একটি ছত্রাকের নাম রাখা হয় “সেরকোপেমসেস মেসি”। পাতাগোনিয়ান এক প্রজাতির মাকড়সার নাম “আকান্থোগোনাটাস মেসি”, পুনা অঞ্চলের একটি টিকটিকির নাম “লিওলায়েমুস মেসি”, আন্দিজের প্রাগৈতিহাসিক শকুনের নাম “ভালচার মেসি” এবং ঝিনুকের মতো দেখতে প্রাগৈতিহাসিক এক খোলসি প্রাণীর নাম “ডিস্কনিস্কা মেসি”।

নতুন এই ফুলের একটি বিশেষত্ব হলো, ফুটলে এর পাপড়িতে সাদা ও অত্যন্ত কোমল হালকা নীলের এক অনন্য মিশ্রণ দেখা যায়, যাতে ফুটে ওঠে আর্জেন্টিনা দলের জার্সির রং। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জন্য এ যেন প্রকৃতির দেওয়া পোস্টকার্ড, যা সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে আন্দিজের জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে। দেশের জার্সি ছাড়লেও ৩৯ বছর বয়সী মেসি ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলে যাচ্ছেন।

   

About

Popular Links

x