আইপড, আইপ্যাড কিংবা আইফোনের মতো বৈপ্লবিক সব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে গ্যাজেটে বুঁদ করে রেখেছিলেন স্টিভ জবস। অ্যাপলকে পরিণত করেছিলেন বিশ্বসেরা প্রযুক্তি সাম্রাজ্যে। তবে অন্যদের প্রযুক্তির নেশায় বুঁদ করলেও নিজের ঘরের দৃশ্যপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিজের সন্তানরা যাতে অতিরিক্ত প্রযুক্তি বা প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইসে আসক্ত না হয়ে পড়ে, সে বিষয়ে বেশ কড়া নজর রাখতেন এই অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক কলামে সাংবাদিক নিক বিল্টন লেখেন, প্রথম আইপ্যাড বাজারে আসার পর এক কথোপকথনে তিনি স্টিভ জবসকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তার সন্তানরা নতুন এই ডিভাইসটি পছন্দ করেছে কি না। জবাবে জবস বলেছিলেন, ‘‘ওরা এটি ব্যবহারই করেনি। আমরা বাড়িতে সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বেশ কিছু নিয়ম ও সীমা নির্ধারণ করে রেখেছি।’’
তবে কেবল স্টিভ জবসই নন, বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আরও অনেক শীর্ষ কর্মকর্তার পারিবারিক জীবনেও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন কড়া নজরদারির প্রবণতা দেখা যায়। ওয়্যারড ম্যাগাজিনের সাবেক সম্পাদক ও ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ৩ডি রোবোটিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস অ্যান্ডারসন জানান, তাঁর সন্তানরা প্রায়ই অভিযোগ করে যে প্রযুক্তি নিয়ে তিনি অতিরিক্ত কড়া নিয়মকানুন মেনে চলেন। অ্যান্ডারসনের ভাষায়, ‘‘আমরা প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো একদম কাছ থেকে দেখেছি। নিজের জীবনে যা দেখেছি, তা আমার সন্তানদের সঙ্গে ঘটতে দিতে চাই না।’’
স্টিভ জবসের বিখ্যাত জীবনীগ্রন্থের লেখক ওয়াল্টার আইজ্যাকসন জানান, স্টিভ জবস প্রতি সন্ধ্যায় ঘরের বড় ডাইনিং টেবিলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে রাতের খাবার খেতেন। সেই আড্ডায় বই, ইতিহাস এবং নানা বিষয়ে আলোচনা হতো। কিন্তু খাবার টেবিলে বসে কেউ কোনোদিন আইপ্যাড বা কম্পিউটার হাতে নেয়নি এবং তাঁর সন্তানদের মধ্যেও ডিভাইস ব্যবহারের কোনো আসক্তি ছিল না।



