প্রযুক্তি দুনিয়ায় একের এক অভাবনীয় সাফল্য এনে দিচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স বা এআই। এবার ধর্মেও ডিজিটাল বিপ্লবের ছোঁয়া লেগেছে। সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন শহরের এক গির্জায় এআই যিশুর সঙ্গে মানুষের কথা বলার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি বিশ্বজুড়ে বেশ সাড়া ফেলেছে। গির্জাটিতে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভক্ত এআই যিশুর সঙ্গে কথা বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে অনেকে সমালোচনাও করছেন।
পিটার্স চ্যাপেল গির্জাটিতে যাজকের পরিবর্তে অনুতপ্ত ব্যক্তিদের স্বাগত জানায় তার কম্পিউটারসহ কিছু প্রযুক্তি, যার মূল্য কয়েক হাজার ইউরো। আর অন্য পাশে থাকা স্ক্রিনে যিশুর মতো একজন ভেসে ওঠেন; যিনি সান্ত্বনা, আনন্দ ও বিশ্বাসের কথা বলেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যিশুটি তৈরি করেছেন সুইস প্রযুক্তিবিদ মার্কো স্মিথ। একইসঙ্গে তিনি পিটার্স চ্যাপেলের একজন ধর্মতত্ত্ববিদ।
এআই যিশু সম্পর্কে তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, “আমরা এখানে একটা পরীক্ষা করছি। এআইয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা দেওয়ার মাধ্যমে আমরা মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে চেয়েছি। এভাবে আমরা একে অপরের সঙ্গে এআই নিয়ে কথা বলার ভিত্তিটা গড়ে দিতে চেয়েছি।
এআই যিশুর সঙ্গে কথা বলার পর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বের হয়েছেন। লুসার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিশাস্ত্রের অধ্যাপক পেটার কির্শশ্ল্যাগার প্রকল্পটি নিয়ে খুশি না হলেও মনে করছেন, এটি চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘‘যখন বিশ্বাস ও যাজকের সেবা পাওয়ার কথা আসবে তখন আমাদের সতর্ক হতে হবে। ধর্মের অর্থ খোঁজার সময়ও। এই বিষয়টায় যন্ত্রের চেয়ে আমরা মানুষেরা অনেক বেশি দক্ষ। ফলে এসব বিষয় আমাদেরই করা উচিত।”
তবে চ্যাপেলের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক সমালোচনাও হচ্ছে। পোপ ফ্রান্সিসও এখনও এই বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলেননি।



