সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের চাকা অবশেষে ঘুরতে শুরু করেছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই এই নতুন কাঠামো কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় রেখে একযোগে নয়, এই পে-স্কেল মাঠপর্যায়ে আসবে ধাপে ধাপে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে আলোচিত ও আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট আটবার নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের কথা থাকলেও করোনা মহামারি পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘসময় পিছিয়ে যায়। তবে ২০২৬ সালে এসে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারি মহলে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নবম পে স্কেল নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিমধ্যে বিস্তারিত পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। সচিবালয়ের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে গঠিত ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি বিভিন্ন অংশীজনের সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত মতামত তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করা ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেলের একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রেডভিত্তিক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
গ্রেড বেতন স্কেল (টাকা)
০১ ১,৬০,০০০/- টাকা (নির্ধারিত)
০২ ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা
০৩ ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা
০৪ ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা
০৫ ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা
০৬ ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা
০৭ ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা
০৮ ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ টাকা
০৯ ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ টাকা
১০ ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা
১১ ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা
১২ ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ টাকা
১৩ ২৪,০০০ – ৫৮,০০০ টাকা
১৪ ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা
১৫ ২২,৮০০ – ৫৫,২০০ টাকা
১৬ ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা
১৭ ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ টাকা
১৮ ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা
১৯ ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা
২০ ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা
এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাবিত তালিকা মাত্র। সরকার কর্তৃক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হলে সেটিই আইনগতভাবে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।



