বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ করার কথা জানিয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হোটেলগুলো।
রবিবার (২ ডিসেম্বর) থেকে ত্রিপুরায় আগত বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনো ধরনের হোটেল পরিষেবা দেওয়া হবে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
অল ত্রিপুরা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা আরও বলেছে, “আমরা ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ। সব ধর্মের প্রতি আমাদের সম্মান আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননা বা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রতি এক শ্রেণির উগ্র জনতা তীব্র অত্যাচার করছে।”
তারা দাবি করেছেন যে, “এগুলো আগেও হতো। কিন্তু এখনকার মতো না।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “বর্তমান পরিস্থিতি ভীষণ উদ্বেগের। আমাদের রাজ্যে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ থেকে আগত নাগরিকদের আমরা অতিথির সম্মান দিয়ে থাকি। সেখানে বাংলাদেশের এক শ্রেণির নাগরিকদের সে দেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি এমন আচরণ নিন্দনীয়।”
এদিকে হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রিপুরার সব হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে বাংলাদেশি নাগরিকেরা যে নিষিদ্ধ, এমন নোটিশ রাখতে হবে। নিরাপত্তা তল্লাশি বাড়ানোর জন্যও হোটেলগুলোকে বলা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে ঢুকে হামলা চালানো হয়। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু সংঘর্ষ সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠনের সমর্থকেরা এ হামলা চালান। এদিন মুম্বাইয়ের বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কাছাকাছি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) আয়োজনে কয়েক শ লোক বিক্ষোভ করেছেন।
এ ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সম্পত্তি কোনো অবস্থাতেই লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং দেশের (ভারতের) অন্যান্য স্থানে তাদের উপ ও সহকারী হাইকমিশনের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।
অন্যদিকে, আগরতলার হামলার বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত উল্লেখ করে নিন্দা ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনা বাংলাদেশ সরকারকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। ঘটনাপ্রবাহ দেখে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনা কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের লঙ্ঘন।



বাংলাদেশিদের চিকিৎসা দেবে না কলকাতার জেএন রায় হাসপাতাল