Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মব-সহিংসতার ভয়েই কি তিন সাংবাদিক ‘চাকরিচ্যুত’?

এক সমন্বয়ক বলেন, ‘এরা (জুলাই রেভলিউশনারি অ্যালায়েন্স) সংস্কৃতিক উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই’

আপডেট : ০১ মে ২০২৫, ০১:০০ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে প্রশ্ন করার পর তিন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন। তিন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত মব-সহিংসতার ভয়েই তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে “ব্যবস্থা” নিয়েছেন তারা।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশি শর্টফিল্ম ‘আলী’র প্রদর্শনীর আমন্ত্রণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টার কাছে সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে এটিএন বাংলার রিপোর্টার ফজলে রাব্বী, দীপ্ত টিভির রিপোর্টার মিজানুর রহমান (রহমান মিজান) ও চ্যানেল আই-এর রিপোর্টার রফিকুল বাসারের প্রশ্ন এবং পরবর্তী ঘটনাবলী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

চ্যানেল আই-এর সিনিয়র নিউজ এডিটর মীর মাশরুর জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, “বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর রিপোর্টারকে তার দায়িত্ব থেকে বিরত রেখে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হচ্ছে। যে প্রশ্নটি উঠেছে, রিপোর্টার ‘অপেশাদারিত্বের’ পরিচয় দিয়েছেন, সেটা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। পাশাপাশি জুলাই রেভলিউশনারি অ্যালায়েন্স নামে একটি সংগঠনের ফেসবুক পেজ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। দু’টি বিষয়কেই আমরা বিবেচনায় নিয়েছি। কারণ, এখানে অনেক মানুষ চাকরি করেন, পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তার বিষয়ও আছে। এই কারণে আমরা রিপোর্টারকে কাজ থেকে বিরত রেখেছি। আমরা কিন্তু তাকে চাকরিচ্যুত করিনি। তদন্তের পর রিপোর্টে কি পাওয়া যায় সেটা দেখে কর্তৃপক্ষ পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করে জুলাই রেভলিউশনারি অ্যালায়েন্স নামের একটি সংগঠনের রোষানলে পড়া রফিকুল বাসার এখনও প্রশ্ন করায় আপত্তির কিছু দেখছেন না। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, “আমি ওই প্রেস কনফারেন্সে মূলত বলতে চেয়েছি, বৈশাখ হচ্ছে অতীতের দুঃসহ স্মৃতি বাদ দিয়ে নতুনকে আনা। জুলাই আগস্টের স্পিরিটও তাই। জুলাইয়ের উজ্জ্বল দিক, শহিদ ও বীরত্বের কথা বলতে পারতাম। কিন্তু তা-না করে যা করলাম তা কি সুন্দর হলো, ভালো হলো? এ বিষয়ে উপদেষ্টার মন্তব্য জানাতে চেয়েছি। এর মধ্যে তো রাজনৈতিক কোনো বিষয় নেই।”

এটিএন বাংলার রিপোর্টার ফজলে রাব্বী সম্পর্কে একই সংবাদ মাধ্যমের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মনিউর রহমান বলেন, “সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নের জের ধরে টিভি চ্যানেল ঘেরাওয়ের হুমকি দেওয়া হয়েছে। যে কারণে ওই প্রতিবেদককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে তো অনেক মানুষ চাকরি করেন। ফলে, উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণেই এটা হয়েছে।”

রিপোর্টার মিজানুর রহমান (রহমান মিজান) সম্পর্কে দীপ্ত টিভির হেড অব নিউজ এস এম আকাশ বলেন, “আমাদের রিপোর্টার প্রেস কনফারেন্সে যেটা বলেছে, সেটা প্রতিষ্ঠানের পলিসির সঙ্গে যায় না। ফলে আমরা তাকে চাকরিচ্যুত করেছি।”

এদিকে তিন সাংবাদিকের চাকরিচ্যুতিতে নিজেদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “ম্যাস মার্ডার ডিনায়ালের একটা সূক্ষ্ম চেষ্টা থেকে প্রেস কনফারেন্সে যে কথাগুলা বলেছেন তিনজন সাংবাদিক, সেই কথাগুলা জুলাই দেখেছে এমন যেকোনোা সেনসিটিভ মানুষকেই আহত করতে পারে। যে মা তার সন্তান হারিয়েছে মাত্র আট মাস আগে, যে সন্তান খুনির গুলিতে আহত হয়েছে, যে বোন- যে ভাই শহিদ হওয়ার হাত থেকে বেঁচে এসেছে, তাদের বুকে শেলের মতো বিঁধেছে সাংবাদিক তিনজনের কথা।”

ফজলে রাব্বী, মিজানুর রহমান (রহমান মিজান) ও রফিকুল বাসারের চাকরিচ্যুতির বিষয়টি জানতে পেরেছেন জানিয়ে উপদেষ্টা লেখেন, “প্রত্যেক চ্যানেলের নিজস্ব এডিটোরিয়াল পলিসি থাকে। তারা সেই পলিসির আলোকে কী সিদ্ধান্ত নেবে- তা তাদের ব্যাপার। তারপরও অনলাইনে কাউকে কাউকে একটা কথা বলার চেষ্টা করতে দেখছি, আমাকে প্রশ্ন করায় চাকরি গেছে তাদের। হাস্যকর কথা। বিষয়টা যে আমি না, বিষয়টা যে জুলাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পলিসির ব্যাপার- এটাও তারা বুঝতে পারছে না।”

যা জানতে চেয়েছিলেন তিন সাংবাদিক

কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশি শর্টফিল্ম ‘আলীর প্রদর্শনী নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চ্যানেল আই-এর সাংবাদিক রফিকুল বাসার পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রায় শেখ হাসিনার মোটিফ প্রসঙ্গ তুলে সংস্কৃতি উপদেষ্টার কাছে জানতে চান, “চারুকলায় পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রায় শেখ হাসিনার মোটিফ প্রদর্শন করার বিষয়টি কি ঠিক হয়েছে? নাকি এতে সমস্যা আরও দীর্ঘায়িত হলো?”

এ বিষয়ে সংস্কৃতি উপদেষ্টার বক্তব্য জানতে চান রফিকুল বাসার৷ সাংস্কৃতি উপদেষ্টাও পাল্টা প্রশ্ন করেন, “এবার নববর্ষের থিম কী ছিল?” তখন আরেক সাংবাদিক উত্তর দেন, “নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান।” তখন সাংবাদিক রফিকুল বাসার আবার প্রশ্ন করেন, “আমরা কি সুন্দর জায়গাতে গেলাম, নাকি আরও অসুন্দরকে আরও দীর্ঘায়িত করলাম? আপনার ব্যক্তিগত মতামত কী?”

জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “মোটিফ কী ব্যবহার করবে এটা চারুকলা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত। আমি সাধারণ নাগরিক হিসেবে বলছি। সেটা হচ্ছে, এই যে আপনি ফ্যাসিবাদের দেখুন, যখন আমরা জাতীয় ঐক্যের কথা বলি, তখন জাতীয় ঐক্যের কথার মধ্যে কি আমরা, ধরেন, যে মানুষ ১,৪০০ মানুষ খুন করেছেন জুলাইতে, তার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে, তার বিচার, অনুশোচনা, ক্ষমা কোনো কিছুই ঘটেনি, আপনি কি আমাকে বলছেন তার সঙ্গে এখন জাতীয় ঐক্য করবার জন্য? আই থিংক দিস ইজ অ্যাবসার্ড।”

এই পর্যায়ে রফিকুল বাসার বলে, “এটা নিয়ে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। আমি বলেছি যে, সেই সমস্যাটা কি জিইয়ে থাকলো, নাকি সমাধান হলো?” তখন উপদেষ্টা বলেন, “প্রথম কথা হচ্ছে, আমার যেটা উত্তর দেওয়ার, পরিষ্কার করে দিয়েছি। ১,৪০০ মানুষ যারা খুন করেছে, তাদের বিচারপ্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত, বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত, ইউ ক্যান নট এক্সপেক্ট, এ কাইন্ড অব রিকনসিলিয়েশন প্রসেস টু স্টার্ট। দ্যাট ইজ এ ভেরি সিম্পল থিং। পৃথিবীর কোথাও এটা ঘটে না। এটা হচ্ছে, সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার উপলব্ধি। রিগার্ডিং দ্য মোটিফ, দ্যাটস নট মাই জব। এটা হচ্ছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা কী করবে।”

এই সময় এটিএন বাংলার সাংবাদিক ফজলে রাব্বী জানতে চান, “আপনি যে ১,৪০০ মানুষ নিহতের কথা বললেন, সেটা তো বলবে রাজনীতিকরা।” উত্তরে ফারুকী বলেন, “আই এম টকিং অ্যাবাউট ইউনাইটেড নেশনস রিপোর্ট। ভাই, প্লিজ ডু সাম রিসার্চ। প্লিজ ডু ইউর ওন রিসার্চ। চেক।” এ পর্যায়ে দীপ্ত টিভির রিপোর্টার মিজানুর রহমান প্রশ্ন করেন, “জুলাই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ১,৪০০- আপনি কীভাবে বলেন? এটাতো কোর্ট বলবে, কোর্ট ভারডিক্ট করবে। আপনি একটা বায়াসড উত্তর কীভাবে দেন?” জবাবে উপদেষ্টা পাল্টা প্রশ্ন করেন, “৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরে আপনার মতো একজন সাংবাদিক যদি এসে বলতেন, কী করে আপনি বলছেন এত লোককে পাকিস্তানিরা মেরেছে। কোর্ট তো ভার্ডিক্ট দেয়নি এখনো। দিস এই অ্যাবসার্ড। ডোন্ট সে দিস।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের কারণে আন্দোলনের হুমকি

সাড়া জাগানো ওই সংবাদ সম্মেলনের পর “জুলাই রেভলিউশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ)” ফেসবুক পেজ থেকে কয়েকটি পোস্ট দেয়া হয়। সেখানে দীপ্ত টিভির মিজানুর রহমান, চ্যানেল আই-এর রফিকুল বাসার ও এটিএন বাংলার রিপোর্টার ফজলে রাব্বির ছবি দিয়ে পোস্ট করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। ওই চ্যানেলগুলো তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় তা দ্রুত জানানোর দাবিও জানানো হয় ফেসবুক পোস্ট থেকে।

মঙ্গলবার দুপুরে ওই তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে আবারও ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে “মার্চ টু দীপ্ত টিভি, চ্যানেল আই, এটিএন বাংলারও” হুমকি দেওয়া হয় ওই পেজ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই সংগঠনের আহ্বায়ক সালেহ মাহমুদ রায়হান।

সালেহ মাহমুদ রায়হান সাংবাদিকদের কাছে বলেন, “যেসব সাংবাদিক গণহত্যার পক্ষ নিয়েও দিব্যি কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।”

এই সংগঠনের ব্যাপারে ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির একজন সমন্বয়কের কাছে। তিনি বলেন, “মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে যখন নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। আমরা তার নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে নিতে পারিনি। আমাদের কোনো সমন্বয়ক তার এই নিয়োগে খুশি হননি। এক পর্যায়ে এই অ্যালায়েন্সের নেতারা তার পাশে দাঁড়ান। এরা সংস্কৃতিক উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ। এখানে মূলত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।” 
জুলাই রেভ্যুলিউশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) ফেসবুক পেজটিতে থাকা নম্বরে ফোন করে বন্ধ পাওয়া গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “কেউ একজন হুমকি দিলো আর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়ে ফেললো- সেটা তো ঠিক না। আমরা বারবার বলছি, মবের সংস্কৃতি বন্ধ করা দরকার। সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ তো আমরা দেখছি না। এভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতা হবে না। বরং ওই আগের মতো তোষণের সাংবাদিকতা হবে।”

আলোচনায় দীপ্ত টিভি

মঙ্গলবার দুপুরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দীপ্ত টিভির সাংবাদিক রহমান মিজানুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত করে দেয়া ওই চিঠিতে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। একই সময় টেলিভিশন চ্যানেলটি তাদের নিউজ স্ক্রলে ঘোষণা দেয়, অনিবার্য কারণবশত দীপ্ত টিভির সকল সংবাদ পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। সন্ধ্যায় অব্যাহতি দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল ইনচার্জ মাহমুদুর রহমান শাওনকে।

তবে রাত ১১টা থেকে দীপ্ত টিভির খবর আবার চালু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব নিউজ এসএম আকাশ বলেন, “নিজেদের অভ্যন্তরীণ কারণে খবর প্রচার বন্ধ রেখেছিলাম। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।”

এটিএন বাংলা থেকে ফজলে রাব্বীকে বরখাস্ত করে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, “রিপোর্টিংয়ের কাজে যথাযথ পেশাগত দায়িত্ব পালন না করায় তাকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”

এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মনিউর রহমান বলেন, “প্রেস কনফারেন্সের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এটা নিয়ে জুলাই রেভুলিউশন অ্যালায়েন্স পেজে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে দীপ্ত, চ্যানেল আই ও এটিএন বাংলার সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। মূলত সে কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ) সভাপতি সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, “মে দিবসের প্রাক্কালে প্রশ্ন করার কারণে তিনজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুতি দুঃখজনক। আমরা বলছি, ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে স্বাধীন সাংবাদিকতা হতে পারে না।”

হুমকিতে যায় সাংবাদিকের চাকরি

গত ১৮ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতা (বর্তমানে এনসিপি নেতা) হাসনাত আব্দুল্লাহ কয়েকজনকে নিয়ে সময় টিভির বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন এবং টিভি স্টেশনের ১০ জনের নামের একটি তালিকা দিয়ে তাদের চাকরিচ্যুত করতে চাপ দেন। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকার পাঁচজনকে ডেকে পদত্যাগ করতে বলার পর তারা তাতে অস্বীকৃতি জানালে একই দিন হোয়াটসঅ্যাপে তাদের অব্যাহতিপত্র পাঠানো হয়।

প্রায় ১৫ জনের একটি দলসহ হাসনাত আব্দুল্লাহ সিটি গ্রুপের হেড অফিসে গিয়ে কয়েকজনকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার কথা তখন নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান। তবে সিটি গ্রুপে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও সেখানে গিয়ে ভয় দেখানো বা তালিকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর এর আগেও অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের চাপে প্রেসক্লাব ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের চাপের কারণে কর্মরতদের পরিবর্তন, ছাঁটাই বা পরিচালনায় পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে।

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, “আজকে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের কারণে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মালিক দুর্নীতিগ্রস্থ। ফলে, যে সরকারই ক্ষমতায় থাক, তাদের বিশেষ সুনজরের প্রয়োজন হয়। এই কারণে সরকার কিছু বলুক আর না বলুক তারা আগেই নিজেদের নিরাপদ করতে এই ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। সরকারের কেউ এক্ষেত্রে ফোন করেছে কিনা জানি না।”

মাসুদ কামাল মনে করেন, “তিনজন সাংবাদিক সঠিক প্রশ্ন করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “যে প্রশ্নে উত্তরদাতা ক্ষুব্ধ হন, সেটাই সঠিক প্রশ্ন। আর মবের যে কথা বলা হচ্ছে, সেটাও খোঁড়া যুক্তি বলে আমার মনে হয়। কারণ, প্রথম আলোর সামনে যে মব হয়েছে, তার চেয়ে বড় আর কী হবে? সেখানে তো জিয়াফত হয়েছে। তাতে কি প্রথম আলো তাদের পলিসি বদলে ফেলেছে? ফলে মালিকপক্ষ ঠিক থাকলে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন নয়।”

   

About

Popular Links

x