Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাপানে সুনামির আঘাত, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা জারি

জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৫, ০৯:৪৪ এএম

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার ৮.৮ মাত্রার ওই কম্পনে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে সুনামির সৃষ্টি হয়। এছাড়াও আলাস্কা, হাওয়াই ও দক্ষিণে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

জাপান ও মার্কিন ভূমিকম্পবিদদের মতে, জাপানের স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে ভূমিকম্পটির প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৮.০। পরে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) তা সংশোধন করে ৮.৮ করে এবং ভূকম্পনটির গভীরতা ছিল ২০.৭ কিলোমিটার।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল রাশিয়ার কামচাটকার পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাতস্কি শহর থেকে ১১৯ কিলোমিটার পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পূর্বে। ওই শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার। সেখানে এ পর্যন্ত ৬.৯ মাত্রার বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প-পরবর্তী কম্পনও রেকর্ড করা হয়েছে।

পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাতস্কিতে ভবনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, রাস্তায় গাড়ি দুলেছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মোবাইল ফোন সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। রুশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কয়েকজন চিকিৎসা সহায়তা চাইলেও গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জাপানের ফুকুশিমার দাই-ইচি এবং ফুকুশিমা দাইনি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) আজ বুধবার (৩০ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

রাশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় ৮.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশটির পাশাপাশি জাপানেও সুনামি সর্তকতা জারি করা হয়েছে। জাপানের সংবাদমাধ্যম এরই মধ্যে উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইডো উপকূলে সুনামি আঘাত হানার খবর দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হলো।

২০১১ সালের মার্চে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বিশ্বজুড়ে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন। ওই ভূমিকম্পে বিশাল সুনামি হয়েছিল এবং একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গলন শুরু হয়।

তবে জাপানের প্রশান্ত উপকূলীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বুধবারের ভূমিকম্পের পর কোনো গড়বড় ধরা পড়েনি। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) জানিয়েছে, ফুকুশিমা দাইইচি কেন্দ্রটিতে প্রায় ৪ হাজার কর্মী উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং দূর থেকে কেন্দ্রে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফিলিপাইনের ভূকম্প ও আগ্নেয়গিরি সংস্থার প্রধান টেরেসিতো বাকলকল বলেন, তাদের পূর্ব উপকূলীয় শহর ও প্রদেশগুলোতে ১ মিটার (৩ ফুট) এর চেয়ে কম উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানতে পারে।

তিনি বলেন, ‘‘ঢেউ বড় না হলেও তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আসতে পারে এবং পানিতে থাকা মানুষের জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’’

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে সুনামির প্রথম ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে জানানো হয়। এ সময় হনলুলুতে সুনামির সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং মানুষ উঁচু এলাকায় সরে যেতে শুরু করে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, হোক্কাইডোর দক্ষিণ উপকূলীয় টোকাচিতে ৪০ সেন্টিমিটার (১.৩ ফুট) উঁচু সুনামি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের ভূকম্পনের উপকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকাগুলোতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানকার লোকজন সরিয়ে নেওয়া হলেও গুরুতর কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় গভর্নর ভ্যালেরি লিমারেঙ্কো জানান, রাশিয়ার কুরিল দ্বীপপুঞ্জের প্রধান বসতি সেভেরো-কুরিলস্কে প্রথম সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদে আছেন এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা কেটে না যাওয়া পর্যন্ত তারা উঁচু এলাকায় অবস্থান করবেন।’’

প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতাকেন্দ্র জানায়, ভূমিকম্পটি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের সব দ্বীপ ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো সুনামির সৃষ্টি করেছে। তাদের সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘‘জীবন ও সম্পদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।’’

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলীয় অঙ্গরাজ্য ওরেগনের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ফেসবুকে জানায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটের পর ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার ছোট ছোট সুনামির ঢেউ ওরেগনের উপকূলে পৌঁছাতে পারে। এ সময় মানুষকে সমূদ্র সৈকত, বন্দর ও নৌ-ঘাঁটি এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তারা জানায়, এটি বড় কোনো সুনামি নয়, তবে জলোচ্ছ্বাস ও বিপজ্জনক স্রোত পানির কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ওরেগনসহ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলজুড়ে, অর্থাৎ, কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া, ওয়াশিংটন ও ক্যালিফোর্নিয়াতেও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির উপকূলজুড়ে ‘‘অস্বাভাবিক প্রবল স্রোত ও অনিয়মিত ঢেউ’’ দেখা দিতে পারে। তাদের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা সবাইকে পানির বাইরে, সৈকত ও নদী মোহনার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে বলেছে।

নিউজিল্যান্ড প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণাংশে, ভূকম্পনের উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৯,৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

রাশিয়ার ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থার কামচাটকা শাখা জানিয়েছে, ১৯৫২ সালের পর এই এলাকায় এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

তারা বলছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কম্পন-পরবর্তী আঘাতের ঝুঁকি রয়েছে এবং তা এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। কিছু উপকূলীয় এলাকায় না যাওয়ার জন্যও সতর্ক করেছে তারা।

এ মাসের শুরুতেই কামচাটকার উপকূলে সমুদ্রে পাঁচটি শক্তিশালী ভূকম্পন হয়েছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৭.৪। সেটি ২০ কিলোমিটার গভীরে এবং পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাতস্কি থেকে ১৪৪ কিলোমিটার দূরে ছিল।

এর আগে ১৯৫২ সালের ৪ নভেম্বর কামচাটকায় ৯.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, যদিও সেটি হাওয়াইয়ে ৯.১ মিটার (৩০ ফুট) উঁচু ঢেউ সৃষ্টি করেছিল।

   

About

Popular Links

x