বিদেশে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি ডিগ্রির জন্য খোঁজখবর নিতে গেলে ‘গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ’, ‘টিএ’ কিংবা ‘আরএ’ - শব্দগুলোর মুখোমুখি হননি, এমন আবেদনকারী খুঁজে পাওয়া ভার। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রধান ভরসা এই ‘গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ’।
তবে প্রশ্ন হলো, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ আসলে কী? এটি কি শুধু একটি স্কলারশিপ, নাকি খণ্ডকালীন চাকরি? আর একজন শিক্ষার্থীকেইবা এতে কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়?
গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ কী?
সহজ কথায়, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ হলো পড়াশোনা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বা প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার একটি ব্যবস্থা। এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক ভাতা বা স্টাইপেন্ড পেয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি আংশিক বা সম্পূর্ণ মওকুফ করে এবং স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দিয়ে থাকে।
সাধারণত কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এই অ্যাসিস্ট্যান্টশিপকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ: টিএ-দের মূল কাজ শিক্ষকতা ও কোর্স পরিচালনায় মূল অধ্যাপককে সহায়তা করা। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, গ্রেড ইনপুট দেওয়া, ল্যাব ক্লাস নেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে অফিস আওয়ার পরিচালনা করা এদের প্রধান কাজ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ টিএ-দের পূর্ণাঙ্গ একটি সেকশন পড়ানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়।
রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ: মূলত গবেষণাভিত্তিক কাজ। কোনো অধ্যাপক বা ল্যাব প্রজেক্টের অধীনে থেকে সাহিত্য পর্যালোচনা (লিটারেচার রিভিউ), তথ্য বা নমুনা সংগ্রহ, ডাটা বিশ্লেষণ এবং ল্যাব ব্যবস্থাপনার কাজ করতে হয় আরএ-দের। ভবিষ্যতে যারা একাডেমিয়া বা গবেষণায় ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য এটি কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় সুযোগ।
গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ: শিক্ষকতা বা গবেষণার বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, লাইব্রেরি বা প্রশাসনিক দপ্তরের কাজে সহায়তা করার জন্য এই পদ তৈরি হয়। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ডেটাবেজ হালনাগাদ কিংবা প্রশাসনিক যোগাযোগ সহজ করার মতো দায়িত্ব থাকে জিএ-দের ওপর।
কাজের সময়সীমা ও আয়ের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার চলাকালীন ক্যাম্পাসে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। টিএ হলে পরীক্ষার সময় খাতা দেখার চাপ বাড়তে পারে। আরএ হলে গবেষণার নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে কাজ বেশি থাকতে পারে।
সে অনুযায়ী ১০, ১৫ বা ২০ ঘণ্টার অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বরাদ্দ হয়। ২০ ঘণ্টার একটি অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে মাসিক স্টাইপেন্ড ১,০০০ থেকে ২,৫০০ মার্কিন ডলার বা তারও বেশি হতে পারে।
গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে শিক্ষার্থী নিয়মিত পারিশ্রমিক পান। এর সঙ্গে পুরো বা আংশিক টিউশন সহায়তা এবং স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও থাকতে পারে। তবে সুবিধার ধরন বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ এবং পদের ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শুধু অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেখেই ধরে নেওয়া যাবে না যে আপনার পুরো টিউশন মওকুফ হবে। কত টাকা স্টাইপেন্ড, কতটুকু টিউশন সহায়তা এবং স্বাস্থ্যবিমার খরচ কে বহন করবে - এসব আলাদাভাবে দেখে নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য করণীয়
অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ কিন্তু ভর্তির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেলে না। কোনো কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য বিবেচনা করা হয়। কোথাও আলাদা আবেদন করতে হয়। আবার কিছু পদ বিভাগ বা নির্দিষ্ট অধ্যাপকের গবেষণা তহবিলের ওপর নির্ভর করতে পারে। এমনকি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগেও নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ অংশ ভালোভাবে পড়ুন। প্রয়োজন হলে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম পরিচালক বা বিভাগে ই-মেইল করে জানতে পারেন।
বিশেষ করে টিএ পদের জন্য একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতার ওপর কঠোর শর্ত থাকে। এছাড়া অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ধরে রাখতে হলে প্রতি সেমিস্টারে নির্দিষ্ট জিপিএ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
উচ্চশিক্ষার দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আর্থিক নিশ্চয়তার পাশাপাশি নিজের একাডেমিক ও পেশাগত প্রোফাইল তৈরি করতে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ভূমিকা অপরিসীম। তাই আবেদনের আগেই পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ফান্ডিং ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের নীতিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।



