একটি রেস্টুরেন্টে খাবার সামনে নিয়ে বসে আছেন এক তরুণ ও তরুণী। এসময় একটি পিস্তল হাতে নিয়ে খুনসুটিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
ভিডিও সম্পর্কে জানা গেছে, ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে। ওই তরুণ-তরুণীর মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণের নাম সাজ্জাদ হোসেন মোড়ল আলিফ (১৮)। তিনি শ্রীপুর তেলিহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দেড় মিনিটেও ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কোনো একটি রেস্টুরেন্টে খাবার টেবিলের সামনে বসে আছেন অজ্ঞাতনামা এক তরুণী, অপরদিকে সাজ্জাদ হোসেন ও আরেকজন (কথা শুনে মনে হচ্ছিল)। তরুণীর হাতে রুপালি রঙের একটি পিস্তল তুলে দেন সাজ্জাদ। ওই তরুণী পিস্তল নিয়ে তার দিকে তাক করেন। অপর দিকে সাজ্জাদ হোসেনও আঙুল দিয়ে পিস্তলে গুলি করার অঙ্গভঙ্গি করে তার সঙ্গে খুনসুটি করেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী কয়েকবার পিস্তলটি লোড করার চেষ্টা করলেও হচ্ছিল না। পরে সাজ্জাদ ওই পাশে গিয়ে পিস্তলটি লোড করেন ও দুজনে মিলে খুনসুটি করছিলেন। তারা যেখানে বসেছেন, তার বিপরীত পাশ থেকে অন্য কেউ ভিডিওটি তাদের জ্ঞাতসারে করেছে বলে ভিডিও দেখে মনে হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কিছুদিন আগে সাজ্জাদ হোসেন মোড়লকে শ্রীপুর থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। চাঁদাবাজি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও তিনি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শ্রীপুরের এমসি বাজার ও আশপাশের এলাকায় তিনি ‘‘কিশোর গ্যাং লিডার’’ হিসেবেও পরিচিত।
ঘটনা প্রসঙ্গে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, ‘‘এটি পুরোনো একটি ভিডিও। কিছুদিন আগে একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি এখন কারাগারে আছেন। তবে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও যাচাই-বাছাই ছাড়া নিশ্চিত করা যাবে না এটি আসল নাকি নকল ছিল। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।”