দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিজিৎ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইসলামী লেখক ও ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবী।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টায় গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ওই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “শফিউর রহমান ফারাবীর জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে তা যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় শুক্রবার সকালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি ২০১৫ সালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন।”
এর আগে, গত ৩১ জুলাই শফিউর রহমান ফারাবীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন সিনিয়র আইনজীবী এস.এম. শাহজাহান এবং মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান।
তাদের বক্তব্য ছিল, চলতি মামলার চার আসামির স্বীকারোক্তিতে শফিউরের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য নেই। কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী তার নাম উল্লেখ করেননি এবং নিজে কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। এছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে থাকার বিষয়টি বিবেচনা প্রয়োজন।
এরপর চেম্বার আদালত রাষ্ট্রপক্ষের জামিন স্থগিতের আবেদনের শুনানি শেষে “নো অর্ডার” দিয়েছেন। ফলে হাইকোর্টের আগের জামিন আদেশ বহাল থাকে। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমরান খান।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি এলাকায় (মিলন চত্বরের উল্টো পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ফুটপাতে) কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎকে। হামলায় অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদও গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই মামলায় ২৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়।
এ মামলায় ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান রায় দেন। রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক আসামিকে (শফিউর রহমান ফারাবী) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ডদেশের রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরই হাইকোর্টে আপিল করেন ফারাবী। পরে ২০২২ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। বিচারাধীন আপিলে জামিন চেয়ে আবেদন করেন ফারাবী। ফারাবী ২০০৫-০৬ সেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।