দিনাজপুরে নিহতের পরিবারে চলছে আহাজারি

কাজের সন্ধানে কুমিল্লায় গিয়ে ট্রাক উল্টে নিহত সাতজনের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলায়। নিহতের পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে পরিবারগুলো। কেউ হারিয়েছেন নিজের সন্তান কেউ আবার কেউ জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাসানপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হন।

এর আগে, সোমবার সকালে তারা বাড়তি মজুরির আশায় কুমিল্লায় ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন।

নিহতদের মধ্যে চারজন বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় গ্রামে। আর অপর তিনজনের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামে। বিরামপুরের নিহত চারজন হলেন উপজেলার ভাইগড় গ্রামের পলাশের ছেলে সুমন (২১), একই গ্রামের বিষ্ণু (৩৫), মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০), রাকিবুল্লাহর ছেলে আব্দুর রশিদ (৫৫)। নবাবগঞ্জ উপজেলার নিহত তিনজন হলেন, উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০), ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫)।

নিহত সুমনের মা বলেন, “আমার ছেলে কাজ করতে কুমিল্লা গেইছে, সেখানে এক্সিডেন্ট হয়ে মারা গেছে বাবা। গতকাল বৈকাল বেলায় আমি ফোন দিছি, আমার ছেলে বলতেছে বগুড়া পার হইছি মা। গাড়িত কথা বুঝা যাচ্ছে না, পৌঁছে তোমার কাছে ফোন দিব মা। আর তো ফোন দেয় নাই। আজ ভোর থেকে ফোন দিচ্ছি ফোন রিসিভ হচ্ছে না। ফোন দিতে দিতে একটা লোক ফোন ধরে বলছে ফোনের মালিক মারা গেছে।”

বিরামপুরের ভাইগড় গ্রামের মমিনুল ইসলাম বলেন, “নিহত চারজনের মধ্যে দুজনার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব  ছিল। ধান কাটা থেকে শুরু করে যেকোনো কাজ আমরা একসঙ্গেই করতাম। কিন্তু আজ সকালে যখন ঘুম থেকে উঠে শুনলাম চারজন মারা গেছে। বিশ্বাস করতে পারছি না।” 

একই ঘটনা চারজনের শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন পুরো ভাইগড় গ্রাম। স্বজন হারানোর বেদনায় দিশাহারা পরিবারগুলো এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না কেউ এই নির্মম বাস্তবতা ।

সুমনের বন্ধু নয়ন বলেন, “গত দুই দিন আগেই সুমনের সঙ্গে আমার কথা হয়। সুমন আমাকে জানিয়েছিল তারা কয়েকজন মিলে ধান কাটার জন্য কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী এলাকায় যাবে। তাদের সঙ্গে আমারও ধান কাটতে যাওয়ার কথা ছিল। পারিবারিক কাজের জন্য যেতে পারিনি। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনলাম তারা সকলেই মারা গেছে। বিশ্বাস করতে পারছি না।”