মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সফরে সরকারি সেবা গ্রহণ করলে মূল্য পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়েছে, দেশে বা বিদেশে কোনো সফর সরকারি না ব্যক্তিগত সফরসূচির চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সরকারি সফরের ক্ষেত্রে যানবাহন ও আবাসনের ব্যবস্থা সরকার বহন করবে। তবে ব্যক্তিগত সফরে এসব সুবিধা গ্রহণ করলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যয় নিজেকেই পরিশোধ করতে হবে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর যাতায়াতকালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন। দেশের অভ্যন্তরে সফরের ক্ষেত্রে ঢাকায় যাত্রা ও প্রত্যাবর্তনের সময় তাদের একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ে সফরের সময় যথাসম্ভব জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আগমন ও বিদায়ের স্থানে অভ্যর্থনা ও বিদায় জানাবেন।
তবে প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার তাদের নির্ধারিত সরকারি সফর পরিবর্তন না করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (এএসপি) দায়িত্ব দিতে পারবেন। মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী চাইলে তারা নিজ সফরসূচি পরিবর্তন করতে পারবেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উপজেলা পর্যায়ে সফরের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। অপ্রয়োজনে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে না।
নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে আগমন ও প্রস্থানের সময় প্রয়োজন না হলে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা নেই। ট্রানজিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।
আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। রেলপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশ সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোকে অবহিত করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।
সাধারণ নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সফরসূচি যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে এবং কোনো পরিবর্তন হলে তা দ্রুত জানাতে হবে।
সার্কিট হাউজ বা সরকারি রেস্ট হাউজের বাইরে অবস্থান করলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলি প্রযোজ্য থাকবে।
নির্দেশনাটি দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা আগের নির্দেশনাটি বাতিল করা হয়েছে।