বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। দেশের ১২টি জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগসহ মোট ৩৯ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গতিশীলতা আনতে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এপিবিএন-২-এর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে পঞ্চগড়ে এবং এসবির ওহাবুল ইসলাম খন্দকারকে বান্দরবানের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগমকে জয়পুরহাটে এবং এসবির ছুফি উল্লাহকে পাবনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খাঁনকে নীলফামারীতে এবং ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীকে নড়াইলের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।
একই আদেশে রাজশাহীর সারদার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমকে সাতক্ষীরায় এবং ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে চাঁদপুরে বদলি করা হয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারকে ঝালকাঠিতে এবং আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার রিয়াজুল ইসলামকে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলমকে চট্টগ্রামে এবং সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার করা হয়েছে।
পাশাপাশি বর্তমান দায়িত্ব পালনরত বেশ কিছু কর্মকর্তাকে পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামকে নৌ পুলিশে, বান্দরবানের আবদুর রহমানকে আরএমপিতে এবং জয়পুরহাটের মিনা মাহমুদাকে ডিএমপিতে বদলি করা হয়েছে। পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদকে এসবিতে এবং নীলফামারীর শেখ জাহিদুল ইসলামকে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। নড়াইলের মোহাম্মদ আল মামুন শিকদারকে ট্যুরিস্ট পুলিশে এবং সাতক্ষীরার আরেফিন জুয়েলকে এপিবিএনে পাঠানো হয়েছে। চাঁদপুরের রবিউল হাসানকে ডিএমপিতে এবং মৌলভীবাজারের মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে নৌ পুলিশে বদলি করা হয়েছে। চট্টগ্রামের মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনকে এপিবিএনে এবং ফেনীর শফিকুল ইসলামকে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করতেই এই বৃহৎ রদবদল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।