আসন্ন ঈদ-উল-আজহা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য জনসাধারণকে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কয়েকটি পরামর্শ তুলে ধরে।
নিরাপদে ভ্রমণের জন্য পুলিশের পরামর্শগুলো হলো-
ঈদে যারা বাড়ি যাবেন, তারা ঈদের আগে ও পরে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন। এতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের শেষ মুহূর্তের মারাত্মক ভিড় এড়ানো সহজ হবে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও স্টিমারের ছাদে এবং ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে তাগিদ দেবেন না। চালক যাতে নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করে সে দিকে লক্ষ্য রাখুন। অপেশাদার, ক্লান্ত বা অসুস্থ চালক যাতে গাড়ি না চালায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
হাইওয়েতে নসিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহনে চলাচল পরিহার করুন। হাইওয়েতে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চালাবেন না।
ট্রেনে ভ্রমণের সময় পাথর নিক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক থাকুন; মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখুন। বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। দুর্ঘটনা কবলিত নৌযান শনাক্তকরণের লক্ষ্যে নৌযান মালিকরা নৌযানসমূহে ১০০-১৫০ ফুট লম্বা দড়ি সংবলিত বয়া এবং লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখুন। লঞ্চ ও ফেরিতে ওঠানামার সময় বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করুন।
যাত্রাপথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ প্রতারক চক্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কাউকে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি বা প্রতারক চক্রের সদস্য সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় থানা পুলিশকে খবর দিন বা ৯৯৯-এ কল করুন। অপরিচিত কারো কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণে সতর্ক থাকুন।
কোরবানির পশু সংক্রান্ত পরামর্শগুলো হলো-
ট্রাক, লঞ্চ, নৌকায় বা ট্রলারে অতিরিক্ত পশু বোঝাই করবেন না। মহাসড়কের ওপর এবং রেললাইনের পাশে কুরবানির পশুর হাট বসাবেন না।
পশুর হাটে নির্ধারিত হারে হাসিল পরিশোধ করুন। কেউ অতিরিক্ত হাসিল অথবা চাঁদা দাবি করলে নিকটস্থ পুলিশকে জানান।
পশুবাহী পরিবহনের সামনে পশুর গন্তব্য/স্থান/পশুর হাটের নাম লিখে ব্যানার টানিয়ে রাখুন। কোরবানির পশুবাহী গাড়ি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গন্তব্যস্থল ব্যতীত কেউ কোথাও থামাতে পারবে না।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পশুর চামড়াবাহী যানবাহন সীমান্তমুখী হলে সেগুলো পাচার হবার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের সন্দেহজনক ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশকে জানান বা ৯৯৯-এ কল করুন। কোরবানির পশু বা পণ্যবাহী ট্রাক/যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করবেন না।
পশুর হাটে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন। বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা (কারেন্সি এস্কর্ট) নিন।
জাল টাকা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। এ সংক্রান্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোন নোট জাল সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ পুলিশকে জানান।
বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, নগদ ইত্যাদিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। কোনো অবস্থাতেই আপনার গোপন পিন নম্বর কারো সাথে শেয়ার করবেন না।
শপিংমল/মার্কেটের নিরাপত্তায় সিসিটিভি, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করুন।



