বিকাশ এজেন্টের অর্ধকোটি টাকা ছিনতাই

সিলেটে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের টাকাবাহী একটি গাড়ি থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে বিকাশের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ সুরমা, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ, কমলগঞ্জ ও রাজনগরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে কয়েকজন বিকাশের সিলেট অঞ্চলের সুপারভাইজার ও ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও) পদে কর্মরত ছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দক্ষিণ সুরমা শেখপাড়ার শাহেদ আহমদ (৪২), কমলগঞ্জের কামাল হোসেন (৩৫), কানাইঘাটের আদনান (৩৮) ও আবু তাহের(২৬), জকিগঞ্জের রুপায়ন বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ সুরমার রোমান আহমদ (৪৪), রাজনগরের সালমান আহমদ (২৮), বিশ্বনাথের গোলাম শহীদ (২৯) এবং কানাইঘাটের জুনায়েদ (২২)।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোঃ মনজুরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত সকলকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিলেট মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতা ও বিকাশের সিলেট বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটর নাসিম হোসাইন ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুক্রবার সকালে তার কর্মীদের মাধ্যমে প্রায় ৮১ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে পাঠানোর জন্য একটি প্রাইভেটকারে প্রেরণ করেন। গাড়িটি দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন ব্যক্তি গাড়িটিকে থামার সংকেত দেয়। গাড়ি ধীর হলে তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে পাঁচটি ব্যাগে থাকা প্রায় ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশ আরও জানায়, গাড়িতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিস্থিতির ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও গাড়ির গতি কমিয়ে টাকা ডাকাতির সুযোগ সৃষ্টি করেন। এছাড়া টাকাবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্কর্ট সদস্য রোমান আহমদ (৪৪), সালমান আহমদ (২৮), গোলাম শহীদ (২৯) ও জুনায়েদ (২২) ঘটনার সময় গাড়ির সাথে উপস্থিত ছিলেন না, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে। এছাড়া পুলিশ ধারণা করছে, পরিকল্পিতভাবে অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচার করে ডাকাতির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানা পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও পরিকল্পিত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।