ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলার আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় দুই পরিবারের স্বজনদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
কারা সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে জমা দেওয়ার পর আসামি তরিকুল ইসলাম (২৬) জামিন পেতে পারেন।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ জানান, যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় তরিকুল বর্তমানে কারাগারে আছেন। তার আইনজীবীর আবেদনের পর আদালত ধর্ষণ মামলার বাদীর সঙ্গে কারাগারে বিয়ের অনুমতি দেন। একই সঙ্গে বিয়ে সম্পন্নের শর্তে তার জামিনও মঞ্জুর করা হয়।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর-কনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে কাজীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ সময় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
কারা সূত্র আরও জানায়, তরিকুল একটি দোকানে কাজ করেন এবং কনে স্থানীয় এক দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারে সহকারী হিসেবে কর্মরত। তাদের দুজনেরই আগে আলাদা সংসার ছিল। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়েকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে ওই নারী তরিকুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন।
পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়। পরে উভয় পক্ষ সমঝোতার ভিত্তিতে বিয়েতে সম্মত হলে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়। এরপর বিচারক তাদের বিয়ের অনুমতি দেন এবং বিয়ের কাগজপত্র আদালতে দাখিলের শর্তে তরিকুলের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে।