স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি জানাল ইসি

দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বা 'টপ প্রায়োরিটি' হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি চললেও তা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নীতিমালা সংশোধন, বাজেট বরাদ্দ এবং মাঠ প্রশাসনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো বিবেচনা করে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে ৫ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি জানিয়েছিলেন যে, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর সময় প্রয়োজন হয়।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‍“কোন নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। কমিশনের সার্বিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পর তারিখ ও ধাপগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।” এক্ষেত্রে জুন মাসের জাতীয় বাজেট এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমের বাস্তবতাকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেছেন যে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক বা রাজনৈতিক পরিচয় থাকবে না। তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন যে স্ট্যান্ডার্ডে হয়েছে, সেই স্ট্যান্ডার্ডের নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই। আমরা চাই জনগণের আস্থা বজায় থাকুক।” সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।