২৯ কার্যদিবসে শিশুকে ধর্ষণের মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

মেহেরপুরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাকিল হোসেন নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার (২৪ মে) দুপুরে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তাজুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দীর্ঘসূত্রতার ভিড়ে মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করা সাক্ষীদের সশরীরে আদালতে হাজির করার জটিলতা এড়াতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘ভার্চুয়াল সাক্ষ্য’ গ্রহণ করা হয়। এই মামলায় চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্যপ্রদান করেন। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে বিজ্ঞ বিচারক আজ এই ঐতিহাসিক রায় দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন।

মামলার বিবরণী ও এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ১৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় দুপুরের দিকে নিজ বাবার জন্য মাঠে খাবার নিয়ে যাচ্ছিল ১১ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী শিশুটি। পথিমধ্যে শাকিল হোসেন নামের ওই যুবক শিশুটির পথরোধ করে এবং জোরপূর্বক একটি নির্জন মাঠে নিয়ে গিয়ে তাকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে।

ওই সময় কাছাকাছি মাঠে কাজ করতে থাকা স্থানীয় কৃষকেরা শিশুটির গোঙানি ও কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অপরাধী শাকিল হোসেন দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে দুপুরের দিকেই স্থানীয় জনতা চারপাশ থেকে ঘেরাও করে শাকিলকে আটক করে এবং গণপিটুনি দিয়ে গাংনী থানা পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।