ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জে ৬ বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর বিকেলে উত্তেজিত স্বজন ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার তালশহর পশ্চিম ইউয়নের আন্দিদিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু ওই গ্রামের এক প্রবাসীর কন্যা। ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শিশুর স্বজনরা জানান, দুপুরে জুমার নামাজ চলাকালীন সময়ে কন্যা শিশুকে ডেকে নেয় পাশের বাড়ির কিশোর। ওই কিশোর সম্পর্কে কন্যা শিশুর চাচাতো চাচা। পরে শিশুকে বাসায় না পেয়ে তার মা খোঁজাখুজি শুরু করেন। পরে ওই বাড়ির সামনে শিশুর জুতা পড়ে থাকতে দেখে মায়ের সন্দেহ হয়।
এ সময় কিশোর শিশুর মাকে জানায়, তাকে পানি খাইয়ে তার কন্যা অন্যত্র চলে গেছে। কিন্তু মায়ের সন্দেহ হয় কিশোর শিশুকে আটকে রাখতে পারে। তখন জোর করে ঘরে ঢুকে কন্যার নিথর দেহ দেখতে পান। এ সময় শিশুর মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ওই কিশোর পালিয়ে যায়।
পরে এলাকাবাসী অভিযুক্ত কিশোরকে ধরে মারধর করে তার চাচার বাড়িতে আটক রাখে। উত্তেজিত এলাকাবাসী তাকে পিটিয়ে মারতে চাইলে আশুগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এলাকাবাসী ও স্বজনরা অভিযুক্তর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মনির হোসেন জানান, কন্যা শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুর শরীরের নানান জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে ধর্ষণের হিস্ট্রি দেখা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে।
সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, অভিযুক্ত কিশোর আটকের পর পুলিশের কাছে ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। প্রত্যাশা করছি আদালতেও সে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করবে। মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে।



