আর মাত্র তিনদিন পরেই ঈদ-উল-আজহা। আসন্ন ঈদকে ঘিরে এরইমধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৪ মে) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে চাপ বাড়লেও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। যানজট নিরসনে মহাসড়ক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিরসলভাবে কাজ করেছেন।
এলেঙ্গাগামী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদ করতে বাড়িতে সিরাজগঞ্জে যাবো। ঈদ যাত্রায় সবসময় গাড়ি ভাড়া অতিরিক্ত আদায় করা হয়। ময়মনসিংহ থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসতে আমার সাড়ে ৭শ’ টাকা নেওয়া হয়েছে। আবার এলেঙ্গা থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যেতে ভাড়া চাওয়া হচ্ছে সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। অন্য সময়ে আসতে মাত্র খরচ হয় আড়াইশ’ টাকা। এতে আমরা ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছি।”
আরেক যাত্রী মাহবুবুর রহমান বলেন, “বছরের অন্য সময়ে ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসতে দেড়শ’ টাকা ভাড়া লাগে। কিন্ত এখন ঈদযাত্রার শুরুতেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪শ’ টাকা। এলেঙ্গা থেকে মধুপুর যাওয়ার ভাড়াও চাওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ। এতে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। প্রতি ঈদের এমন ভাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়।”
রংপুরের যাত্রী পলক সরকার বলেন, “পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে যাচ্ছি। এক ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছি, তেমন বাস পাচ্ছি না। দুই একটি বাস পাওয়া যাচ্ছে তাও ভাড়া চাওয়া হচ্ছে দ্বিগুন। সরকারকে এ বিষয়ে নজর দেওয়ার দাবি করছি।”
এ ব্যাপারে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরীফ বলেন, “মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে আমরা সর্তক রয়েছি। রবিবার বিকেল থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। মহাসড়কে ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছে।”
রাজধানী ঢাকার সাথে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই মহাসড়কটি। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যানবাহনের ভিড়ে এই মহাসড়কে সৃষ্টি হয় যানজটের। প্রতি বছর ঈদে এ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন, যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হয়।