ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে চরমে। বিশেষ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে বসে থেকে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে। এদিকে মহাসড়কে যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। এছাড়া ঝুঁকি নিয়েই খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে ঘরমুখো মানুষকে যেতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৭ মে) দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের পুংলী ও এলেঙ্গাসহ বিভিন্নস্থানে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতভর গাজীপুরে চন্দ্রা ও ঢাকার সাভার এলাকায় তীব্র যানজট ছিল। এর প্রভাব পড়ে টাঙ্গাইল অংশে। মহাসড়কের যমুনা সেতু থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ফলে এ মহাসড়ক জুড়েই যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে।
অধিকাংশ যাত্রীর অভিযোগ এই শত কিলোমিটার মহাসড়ক দিয়ে যমুনা সেতু পাড়ি দিতেই ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের ভোগান্তি অবর্ণনীয়। বছরের পর বছর ধরে চলা এই চরম ভোগান্তির অবসান চান তারা।
মহাসড়কের পুংলি এলাকায় বাসচালক মিজানুর রহমান বলেন, “রাত ১০টায় ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে গাড়ি ছেড়েছি। সকাল ১১টা পর্যন্ত টাঙ্গাইলেই বসে রয়েছি। একই স্থানে ৪ ঘণ্টা ধরে বসে আছি। চন্দ্রা পার হলে কুড়িগ্রাম যেতে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। ১৩ ঘণ্টা পার হলেও যমুনা সেতু পার হতে পারিনি।”
রাজশাহীর বাসচালক বেলাল হোসেন বলেন, “অন্য সময়ে রাজশাহী যেতে সময় লাগে, ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। কিন্ত যানজটেই আটকা রয়েছি ৬ ঘণ্টার উপরে। আমাদের এ ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। রাত থেকে আমাদের ঘুম নেই।”
আরেক বাসচালক হাবিবুর রহমান বলেন, “রাত ১০টায় গাড়ি ছেড়ে এখন পর্যন্ত যমুনা সেতু পার হতে পারেনি। সড়কে জায়গায় জায়গায় গাড়ি পাকিং করার কারণে বেশি যানজট হচ্ছে। প্রশাসনকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
বাসযাত্রী মোহনা বলেন, “যানজটে আটকা পড়ে বাচ্চা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছি। প্রচণ্ড ঘরম বাসের ভেতরে। এছাড়া আমরা বাইরেও যেতে পারছি না। সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই গাড়িতে বসে রয়েছি।”
বাসের আরেক যাত্রী পারভেজ বলেন, “১৪ ঘণ্টা ধরে যানজটে রয়েছি। এখনও যমুনা সেতু পার হতে পারিনি। ঈদযাত্রায় এমন যানজটের কারণ সরকারের গাফিলতি।”
নওগাঁর যাত্রী বলেন, “অন্য সময় নওগাঁ যেতে সময় লাগে ৬ ঘণ্টা। ইতিমধ্যেই ১৫ ঘণ্টা পার হলেও যমুনা সেতু পার হতে পারিনি। সরকারের আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এ ব্যাপারে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “বৃষ্টি ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও সেতুর উপর একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ার কারণে জটলা হয়েছে।”
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, “চার লেন থেকে দুই লেনে যমুনা সেতুতে গাড়ি চলাচল, সড়ক দুর্ঘটনায় ও ট্রাক বিকলের ফলে ঘরমুখো মানুষের রাস্তায় নেমে বচসা, বৃষ্টিতে গাড়ি বন্ধ থাকা; এসব কারণে যানজট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি।”