রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলার রায়ের তারিখ ৪ জুন জানা যেতে পারে। এদিন মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।
বুধবার (৩ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার দুই আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন।
শুনানির শুরুতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত আসামিদের সামনে তুলে ধরেন। সেখানে রামিসার নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খোঁজার চেষ্টা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, বাসার ভেতর থেকে রক্তের চিহ্ন উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ পাওয়ার ঘটনাগুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগপত্রে উল্লেখিত স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সোহেল রানাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগও আদালতে তুলে ধরা হয়।
১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওইদিনই বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।