নারায়ণগঞ্জ থেকে মোহাম্মদপুরে এসে ছিনতাই করতেন তারা

ঈদের ছুটি কাটিয়ে ফেরার সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাড়ির সামনে দুই বোনের কাছ থেকে ব্যাগ ও মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। 

এ ঘটনায় জুয়েল ওরফে সোর্স আরিফ ও আনোয়ার হোসেন নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । বুধবার (৪ মে) তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।    

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় জড়িতরা পেশাদার ছিনতাইকারী। এক সময় মোহাম্মদপুরে থাকতেন তারা। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার এড়াতে নারায়ণগঞ্জে নতুন আস্তানা গড়ে তুলেছে। সেখান থেকে এসে নিয়মিত ছিনতাই করেন তারা। এ ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ, চাপাতি ও ছিনতাই হওয়া কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একটি ট্রলি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোন এখনও উদ্ধার করা যায়নি।  

বুধবার (৪ মে) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম।  

পুলিশ জানায়, গত ৩১ মে ভোর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও থেকে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরেন দুই বোন। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় বাসার সামনে মালামাল নিয়ে নামার পর একটি পিকআপে করে আসা তিন ব্যক্তি তাদের চাপাতি দেখিয়ে একটি ট্রলি ব্যাগ, একটি হ্যান্ডব্যাগ ও আরো একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ - এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়। পরে ভুক্তভোগী এক নারী মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফজলুল করিম বলেন, “মামলার তদন্তে প্রথমে জুয়েল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ছিনতাই হওয়া ব্যাগ পিকআপে তুলতে দেখা যায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মাদক মামলা, একটি ডাকাতি মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পরবর্তীতে আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয় ।”

এডিসি ফজলুল করিম আরও বলেন, “ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপের চালক ও মালিক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে জুয়েল চাপাতি হাতে ছিলেন এবং আনোয়ার ব্যাগ পিকআপে তুলেছিলেন। এছাড়া ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে । তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি ।

পুলিশের ভাষ্যমতে, ছিনতাই হওয়া ট্রলি ব্যাগটি এখনও উদ্ধার করা যায়নি। একজন আসামিকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে অপর আসামি তার স্ত্রীকে ব্যাগটি সরিয়ে ফেলতে বলেন।

মোহাম্মদপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড ও ভোরে যাত্রী নামার স্থানগুলোতে মোবাইল ও টহল দল সক্রিয় রয়েছে বলে জানান ফজলুল করিম।