ঢাকার সাভারে আশুলিয়া এলাকায় চলন্ত বাসে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ৯৯৯-এ কল পেয়ে ব্যারিকেড দিয়ে বাস থামিয়ে চালক, চালকের সহযোগি এবং পরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলের, বাসচালক মো. ইমরান (৩৫), হেলপার মো. মুসফেকুর রহমান জনি (২০) এবং চালকের পরিচিত মো. সুমন প্রামানিক (৩০)।
শনিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাভার পরিবহনের একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে।
আশুলিয়া থানার পুলিশ জানায়, গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে উঠেন ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিচিত মো. রুবেল (২৭)। নবীনগর পৌঁছানোর আগেই অন্যান্য যাত্রীরা বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে নেমে যান। এসময় বাসের চালক ইমরান তার সহযোগি জনিকে বাস চালানোর দায়িত্ব দেন। পরে চালক ইমরান ভুক্তভোগী নারীর পরিচিত রুবেলকে মারধর করেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দেন। পরে তিনিও বাস থেকে নেমে যান। এ সময় বাসে ভুক্তভোগী ওই নারী, বাস চালকের পূর্বপরিচিত সুমন প্রামানিক এবং জনি ছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, পরে সুমনের সহায়তায় জনি চলন্ত বাসে ভুক্তভোগী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ভুক্তভোগী নারী চিৎকার করেন। এদিকে, বাস থেকে নেমে রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ডে অপর একটি বাস দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে সাভার পরিবহনের ওই বাসটি থামায়। পরে বাস থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করা হয়। জনি ও সুমনকে বাসসহ আটক করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী নারী।
এরপর রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম আল মামুন এবং পুলিশ সদস্যরা আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে বাসচালক ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষটি জানতে পেরে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে পুলিশ। সেইসঙ্গে দুজনকে আটক করে। পরে রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী নারী। ওই মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে রাড়ইপাড়া এলাকা থেকে আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।”



