Sunday, July 26, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রতিবন্ধী নারী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা: পিতৃত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, ডিএনএ পরীক্ষার দাবি

অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে একাধিক ব্যক্তির নাম সামনে আসায় ঘটনা ঘটেছে

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর গ্রামে স্বামী পরিত্যক্তা, পিতা-মাতাহীন এক শারীরিক ও আংশিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে একাধিক ব্যক্তির নাম সামনে আসায় ঘটনার সত্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এ অবস্থায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি উঠেছে।

ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার বাবলু শেখ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী তার কোনো খোঁজখবর নেন না। বিয়ের পরও তিনি মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে বসবাস করতেন। পরে মা মারা গেলে জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করে জীবনযাপন শুরু করেন।

নারীর দাবি, প্রতিবেশী অহিদ শেখের বাড়িতে কাজ করার সময় তার ছেলে মেহেদী হাসান শেখের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে কারও কাছে মেহেদী হাসানের নাম বললে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেহেদী হাসানের বাবা অহিদ শেখ। তিনি জানান, তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক। যদি তার ছেলে দায়ী প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনের বিধান অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা তারা মেনে নেবেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এর আগে ওই নারী একই গ্রামের বাসিন্দা তারা শেখ ও সায়েম শেখের বিরুদ্ধেও শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছিলেন। তবে এবার তিনি মেহেদী হাসানের নাম উল্লেখ করছেন। ফলে প্রকৃত ঘটনার বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন অহিদ শেখের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গর্ভধারণের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কয়েকজন নারী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন। তাই অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান শেখ জানান, ভুক্তভোগী তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন, তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তার দাবি, ওই নারীর সঙ্গে অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্ক ছিল এবং তাকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তার নাম বলানো হচ্ছে। তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় যদি তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে বিচার হবে, তা তিনি মেনে নেবেন।

অন্যদিকে, তারা শেখও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিজাউল মেম্বার জানান, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে মেডিকেল পরীক্ষা ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষাকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

   

About

Popular Links

x